খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বাড়ি ফেরা হলনা এই অভাগাদের। ট্রেন ছিল আজই এনজেপি থেকে, পথেই হারিয়ে গেল প্রাণ। একটি নয়, দুটি নয়, ৫ জনের প্রাণ গেল একসঙ্গে। আরও তিনজন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আজ সিকিম থেকে ফেরার পথে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার শিকার পর্যটক বোঝাই গাড়ি। পাহাড়ি পথে প্রায় ৬০০ মিটার খাদে পড়ে যায় গাড়িটি। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৫ পর্যটকের। মারাত্মক জখম আরও ৩ পর্যটক। তাদেরকে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়। ভর্তি করা হয়েছে সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে। জানাগেছে, মৃত এই পর্যটকরা ওড়িশা থেকে উত্তরবঙ্গ ঘুরতে আসেন। এরপর সিকিম যান। এদিন বিকালে একটি গাড়ি করে তারা ফিরছিলেন। গাড়ি দুটি পরিবার ছিল। এদিনই এনজেপি থেকে ট্রেন ছিল। পাহাড়ি পথে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের লোহাপুলের কাছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তাতে দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন গাড়ি চালক ভোপাল ছেত্রি। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, মৃতরা হল অভিজিৎ রথ(৪৫), সুলোচনা পান্ডা(৬৩), শকুন্তলা নন্দা(৬০), রতিকান্ত নন্দা(৬৬) ও সবিতা নন্দা। দুর্ঘটনার পর তাদেরকে প্রথমে অন্যগাড়ির চালকেরা এসে উদ্ধারে হাত লাগান। ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তারাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেহগুলি উদ্ধার করেন। রম্ভি ফাঁড়ি থেকে পুলিশ আসে। এরপর দেহগুলি নিয়ে যাওয়া হয় মেডিক্যালে। এই দুর্ঘটনায় জখম হয় ওই পরিবারের শ্বেথপদ্মানন্দা, সিঞ্চা রথ ও ডলি দাস। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শিলিগুড়ি নিয়ে আসে। এখানে তাদের সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে পাঠানো হয়। জানাগেছে, ৫ দিন আগে ওড়িশার দুটি পরিবার তারা শিলিগুড়ি হয়ে সিকিম যান। পূর্ব সিকিমের জুলুক থেকে একটি ছোট গাড়ি করে এনজেপি আসছিলেন। লোহাপুল ও সুনতালের মাঝামাঝি এলেকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সুমো গোল্ড গাড়িতে চালক ছাড়াও এই ৮ জন যাত্রী ছিটকে পড়েন খাদে। কদিন আগেই সিকিম থেকে ফেরার পথে ২ পর্যটক ও গাড়ির চালকের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিলেন আরও ৭ পর্যটক। এবার মৃত্যু হল ৫ জনের। এই দুর্ঘটনায় পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আমরা সমবেদনা জানাই। এই পরিস্থিতিতে দেহগুলি পরটন দপ্তরের পক্ষ থেকে ওড়িশা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। জখমদের চিকিৎসার জন্য আমরা কথা বলেছি।’ এদিকে ওড়িশায় খবর গেছে। সেখান থেকেও পরিবারের লোকেরা রওয়া দিয়েছেন।শোকাহত পরিবারকে নিয়ে যেতে হবে মৃতদেহ।