খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
ভারতে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। রবিবার রাতে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছিল ৩৯৬-এ। সোমবার সারাদিনে দেশজুড়ে আরও ৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেল। তার মধ্যে শুধুমাত্র কেরলেই এই ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ জন। সব মিলিয়ে ভারতে সোমবার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭১। এর মধ্যে দুই বিদেশি নাগরিক-সহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৯,৮১৭ জনের দেহে এই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলে সরকারি হিসেব।
দেশে করোনা আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে কেরল। সোমবার একদিনে ২৮জনের শরীরে মিলল করোনা পজিটিভ। একদিনে একটি রাজ্যে এতজন করোনা আক্রান্তের ঘটনা এই প্রথম। দক্ষিণের এই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯১জন। ছাপিয়ে গেল মহারাষ্ট্রকেও।
মাঝে বেশ কয়েকদিন কেরলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়েনি। বরং কেরলকে ছাপিয়ে সংক্রামিত হয়েছিল মহারাষ্ট্র। মৃত্যুও হয়েছে সেখানে। এদিন নতুন করে.একই দিনে ২৮জনের সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে। অনেকেরই বক্তব্য, এটা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা গোষ্ঠী সংক্রমণের লক্ষ্মণ।এর পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। সূত্রের খবর, আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ জন মুম্বইয়ের এবং এক জন পুণের বাসিন্দা। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই করোনার সংক্রমণে মৃত্যুও হয়েছে তিনজনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিপিন্সের এক নাগরিক। রবিবার এবং সোমবার পরপর দু’দিন দু’জনের মৃত্যু হয়েছে মুম্বইতে।
সোমবার নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়লেও এদিন রাজ্যে প্রথম মৃত্যু হয়েছে। সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন দমদমের এক প্রৌঢ়। এখনও পর্যন্ত তাঁর বা তাঁর পরিবারের কারও বিদেশ যাওয়ার হদিশ পাওয়া যায়নি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে করোনায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রথম উদাহরণ ছিলেন এই প্রৌঢ়। তবে এই ব্যক্তির মৃত্যুর পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর বিদেশ যোগ ছিল। এদিন রাতে নিমতলা শ্মশানে ওই প্রৌঢ়ের শেষকৃত্যেও বাধা দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ।
এদিকে সোমবার ভারতীয় সময়ের রাত ৯ টা নাগাদ জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দফতরে বসে হু চিফ টেড্রস আধানম একটা হিসাবের আন্দাজ দিয়েছেন। কত দ্রুত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে তার বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, গোটা বিশ্বে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ১ লক্ষ মানুষের শরীরে ছড়াতে ৬৭ দিন সময় লেগেছিল। পরের ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ১১ দিনে। আর গত চারদিনেই পরের ১ লক্ষ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। হু-র সেই পরিসংখ্যান উদ্বেগ তৈরি করেছে।