খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি: চা বাগান লকডাউনের দাবিতে ম্যানেজারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন চা শ্রমিকরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় তৃণমুল নেতারাও। এই ঘটনায় মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে।
করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা বাগানগুলি। তরাই ও ডুয়ার্সের ৩০২ টি বড় চা বাগানে লকডাউন চেয়ে রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কাছে সোমবারই আবেদন জানিয়েছেন চা শ্রমিক সংগঠনগুলির জয়েন্ট ফোরাম।
এখন ফার্স্ট ফ্ল্যাশ চলছে। চা বাগান যেন সবুজ কার্পেট। সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও দামী চা পাতার জন্য এই সময়ের দিকেই তাকিয়ে থাকে চা শিল্প মহল। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে অন্যান্য বড় চা বাগানগুলির মতো খোলা ছিল জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানও। মনে করোনার আতঙ্ক নিয়েই কাজে যোগ দেন দলে দলে শ্রমিক। বেলা বাড়লে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে লকডাউন চেয়ে ম্যানেজারকে ঘেরাও করেন চা শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পাহাড়পুর গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমুল প্রধান অনিতা রাউত ও স্থানীয় তৃনমুল নেতারা।করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে চা বাগানে লকডাউন ঘোষণা করে চা শ্রমিকদের সবেতন ছুটি দিতে হবে বলে দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। অনিতা রাউত বলেন, ‘‘আমরা বাগানে এসে চা শ্রমিকদের সবেতন ছুটি দেওয়ার কথা জানিয়ে গেলাম। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথাও বললাম।’’
চা শ্রমিক লক্ষ্মী রায় বলেন, ‘‘মনে আতঙ্ক নিয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের যদি বাগান মালিকরা সবেতন ছুটি দেন তবে নিরাপদে বাড়িতে থাকতে পারি।’’
ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের ম্যানেজার জীবনচন্দ্র পাণ্ডে বলেন, ‘‘এখন ফাস্ট ফ্ল্যাশ। কিছু লোক এসে আমাকে ঘেরাও করে বাগান লকডাউন করতে বলে। আমরা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী চলি। তাই এভাবে লকডাউন করতে পারি না। এরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের কথা বলেন। তাঁদের মাস্ক, সাবান দেওয়ার কথা বলেন। আমরা সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছি।’’
ছোট চা বাগানের মালিকদের সর্বভারতীয় সংগঠন সিসটার সর্বভারতীয় সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যে ছোট চা বাগানগুলি বন্ধ করে দিয়েছি। এখনও কেন বড় চা বাগানগুলি খোলা, তা দেখা উচিৎ প্রশাসনের।’’