খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
আজ ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে ২১ দিনের জন্য গোটা দেশে লক ডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে এই ২১ দিনের সংযম ও ধৈর্য্য জরুরি। এই তিন সপ্তাহ বাড়ির চৌকাঠের বাইরে পা রাখা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সময়োচিত ও বাস্তববাদী বলে অধিকাংশ মানুষই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, বাড়ির চৌকাঠের বাইরে পা না রাখলে মানুষের পেট চলবে কী করে? কীভাবেই বা খাবারদাবার, ওষুধ, রান্নার জন্য জ্বালানি বা রোজকারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করবে।
বস্তুত এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর তাঁর ভাষণেই এক প্রস্ত আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার পর তাঁর বক্তৃতা শেষ হতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা তথা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে-
দেখে নিন সরকারের ঘোষণা অনুসারে কী কী খোলা থাকছে-
১) রেশন দোকান, মুদিখানা খোলা থাকবে। শাক সবজি, মাছ-মাংসের দোকানও খোলা থাকবে। সেই সঙ্গে অব্যহত থাকবে দুধের সরবরাহ। তবে পুরসভা বা পঞ্চায়েত কিংবা স্থানীয় প্রশাসন হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে পারলে ভাল হয়। যাতে করে মানুষকে যথাসম্ভব কম বাড়ির বাইরে বেরোতে হয়।
২) ব্যাঙ্ক, বিমা অফিস, এটিএম খোলা থাকবে।
৩) প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দফতর খোলা থাকবে।
৪) টেলি যোগাযোগ, ইন্টারনেট পরিষেবা, তথ্য প্রযুক্তি সহায়ক পরিষেবা খোলা থাকবে।
৫) খাবার, ওষুধ, মেডিকেল ইকুইপমেন্টের ই-কমার্স পরিষেবা খোলা থাকবে।
৬) পেট্রল পাম্প, রান্নার গ্যাসের এজেন্সি খোলা থাকবে।
৭) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র খোলা থাকবে এবং চালু থাকবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা
৮) হিমঘর খোলা থাকবে।
৯) প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস অব্যহত থাকবে।
কী কী বন্ধ থাকবে-
১) পুলিশ, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ সমস্ত রকম জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা ছাড়া সবরকম সরকারি, আধা সরকারি, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
২) সিনেমা হল, শপিং মল বন্ধ থাকবে।
৩) ওষুধ ও অন্যান্য অত্যাবশকীয় পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ছাড়া সমস্ত শিল্পোদ্যোগ বন্ধ থাকবে।
৪) রেল, সড়ক, আকাশ ও জলপথে সমস্ত রকম গণ পরিবহণ বন্ধ থাকবে। একমাত্র অত্যবশকীয় পণ্য পরিবহণ ও জরুরি পরিষেবার জন্য পরিবহণ চালু থাকবে।
৫) সমস্ত রকম স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গবেষণা কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৬) হোটেল লজ ইত্যাদি সব বন্ধ থাকবে। কেবল মাত্র লক ডাউনের জন্য যে সব হোটেল, ধর্মশালা মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে তা খোলা থাকবে।
৭) মৃতদেহ সৎকারের সময়েও কুড়ি জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবে না।
৮) বন্ধ থাকবে সব রকম ধর্মীয় স্থান।