খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
গোটা দেশে লকডাউনের মেয়াদ আরও উনিশ দিন বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র নরেন্দ্র মোদী সরকার। মঙ্গলবার নববর্ষের দিন সকালে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিলেন গোটা দেশে লকডাউন চলবে ৩ মে পর্যন্ত।
গত শনিবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকের পরই বাংলায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা ৩০ এপ্রিলের থেকে আরও তিন দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাডুর মতো রাজ্যও লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল করে দিয়েছিল। প্রশ্ন হল, তা আরও কেন তিন দিন বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর এ দিন সাউথ ব্লকের এক কর্তা বলেন, কারণ ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ১ মে শ্রম দিবসে এমনিতেই ছুটি থাকে। আবার তার পর শনি ও রবিবার অর্থাৎ ১ ও ২ মে সরকারি অফিস কাছারির সাপ্তাহিক ছুটি। তাই একেবারে ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিন জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আরও কঠোরভাবে লকডাউনের শর্ত পালন করতে হবে। তবেই সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি অবশ্য আরেকটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, দেশের যে সব জায়গায় আগামী দিনে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কম মনে হবে, সেখানে ২০ এপ্রিলের পর লকডাউনের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হবে। তবে তা অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষে। কিন্তু যদি দেখা যায়, তাতে আবার সংক্রমণ ছড়ানোর পরিস্থিতি বা আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তা হলে ফের কঠোরভাবে সেখানে লকডাউন মানা হবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে জায়গা হটস্পটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে কঠিন পদক্ষেপ করা হবে। কারণ হটস্পট বাড়লে সংকট আরও প্রকট হতে পারে।” তাঁর কথায়, “২০ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্নিপরীক্ষা। সরকার মূল্যায়ন করে দেখবে কোনও জায়গা হটস্পট তৈরি হল কিনা বা নতুন করে সংক্রমণ ছাড়াল কিনা। যদি তা না হয়, তাহলে অল্প কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।” অর্থাৎ নিজের এলাকাকে হটস্পট না হতে দেওয়ার দায়িত্ব মানুষের কাঁধেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গেও এও বলেছেন, “নতুন করে ওই এলাকায় করোনার পা পড়লেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।”
