খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। আর তাই তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করছে আমেরিকা। শুক্রবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যর্থতা। আজকের এই মহামারী নিয়ে আগে থেকে কাউকে কিছুই জানাতে পারেনি তারা।
কী ভাবে এই মহামারীর মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছে না তারা। তাই হু-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করছি আমরা।” হু-এর জন্য যে টাকা বরাদ্দ থাকত তা বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংস্থা, যারা করোনা মোকাবিলায় ও মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, তাদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে প্রতি বছর সবথেকে বেশি আর্থিক সাহায্য করত আমেরিকা। প্রতি বছর আমেরিকার তরফে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা দেওয়া হত এই সংস্থাকে। গত মাসে হু-কে দেওয়া ফান্ড আটকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, আগে থেকে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে কোনও রকমের ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কাউকে সতর্ক করা হয়নি। ফলে এই ভাইরাসের প্রকোপ অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দশেক আগে ট্রাম্প ফের অভিযোগ করেন চিনের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে হু। তাই চিনকে আড়াল করার চেষ্টা করছে তারা।
সবাই জানে, করোনাভাইরাস ছড়ানোর পিছনে চিনের কত বড় হাত রয়েছে। কিন্তু তারপরেও হু চিনের পাশেই দাঁড়াচ্ছে। এই মনোভাব থেকে সরে না এলে পাকাপাকি ভাবে ফান্ড বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন এই ফাউন্ডেশন তৈরি করার সঙ্গে ট্রাম্পের হুমকির কোনও যোগ নেই বলেই জানিয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর টেড্রস আধানম। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আর্থিক সাহায্য নিয়ে হওয়া সমস্যার জন্য এই নতুন সংস্থা তৈরি হয়নি। আরও বিস্তারিত ভাবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও বেশি সাহায্যের প্রয়োজন। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” শুক্রবার ফের একবার চিনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বের সামনে চিনকে উত্তর দিতেই হবে। আমাদের সব বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখতে হবে।” অবশ্য এর আগে অনেকবার আমেরিকার এই হুমকির বিরোধিতা করে এসেছে বেজিং। বারবার বলা হয়েছে, কোভিড সংক্রমণে তাদের কোনও হাত নেই। এভাবে বারবার চিনকে দায়ী করে আমেরিকা আসলে দু’দেশের মধ্যে একটা ঠান্ডা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে চিন। সূত্রঃ thewall
