উমফানের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলায় আসার অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর, ক্ষতিপূরণের জন্য আপাতত ১ হাজার কোটির তহবিল রাজ্যের

Thursday, May 21, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
উমফানের গতি একটু কমতেই বুধবার রাতে নবান্ন থেকে বেরোনোর সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কেন্দ্রের সরকারের কাছে আমার আবেদন থাকবে এটাকে (ক্ষয়ক্ষতি) রাজনৈতিক ভাবে না দেখে মানবিকতার সঙ্গে দেখা হোক। বৃহস্পতিবার গোটা রাজ্যে উমফানের তাণ্ডবের প্রাথমিক সমীক্ষার পর কেন্দ্রের কাছে তাঁর প্রত্যাশার কথা আরও স্পষ্ট করে জানালেন মমতা। এ দিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, একবার ভিজিট করুন। নিজে চোখে পরিস্থিতি দেখলেই বুঝতে পারবেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “উমফানের জন্য রাজ্যে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে তা কেন্দ্রের কাছে পেশ করা হবে। তার পর দেখা যাক কত কী দেয় কেন্দ্র”। তবে দিল্লির সাহায্য পাওয়ার আগে রাজ্য সরকার আপাতত ক্ষতিপূরণের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, “পাই পয়সা দেখে খরচ (ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য) করতে হবে। একবার কাজ করলে তাতে যেন তিন বছরের জন্য হাত দিতে না হয়।” ১১ বছর আগে আয়লা ঘূর্ণিঝড়ে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বাংলার। সে বারের দুর্যোগ ও তার ধ্বংসলীলা বেশি মারাত্মক ছিল নাকি এ বারের, তার তুল্যমূল্য বিচার এখনও প্রশাসন করে উঠতে পারেনি। তবে ঘটনা হল, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সেবারও কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল ছিল রাজ্য। এখনও তাই। আয়লার সময়ে কেন্দ্রে তৎকালীন মনমোহন সিংহ সরকার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য রাজ্যকে ১০০০ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছিল। তখন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। বামেরা ইউপিএ জোটে তখন আর নেই। বরং কেন্দ্রে কংগ্রেসের জোট শরিক তখন তৃণমূল। তবু বুদ্ধদেব ভট্টচার্যের আর্জি-আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন মনমোহন-প্রণব জুটি। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-বাংলা রাজনৈতিক সম্পর্ক সে রকম নয়। কথায় কথায় সংঘাত লেগেই রয়েছে। এমনকি কোভিড মোকাবিলা নিয়েও তা অনবরত চলেছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সেই কারণে হয়তো তৃণমূলের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে কেন্দ্র পুরোপুরি সাহায্য করবে কিনা। কারণ, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি এখন খুবই খারাপ। কোভিডের জন্য রাজস্ব আদায় প্রায় থমকেই রয়েছে। তবে এ সব এখনও নিছকই আশঙ্কার কথা। বাস্তব হল, বৃহস্পতিবার সকাল হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ খবর নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ ব্যাপারে সবরকম সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম যে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করবে সেই আশ্বাসও মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও টুইট করে বলেছেন, এই সংকটের মুহূর্তে গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে আপাতত কিছু অর্থ কেন্দ্র বরাদ্দ করতে পারে। তার পর সম্ভবত কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল রাজ্যে পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবে ওই প্রতিনিধি দল। রাজ্য কী দাবি জানাচ্ছে, তার যৌক্তিকতা কতটা তা বিচার করে দেখবে। তার পরই হয়তো বৃহত্তর অনুদানের অঙ্ক নির্ধারণ করবে কেন্দ্রের সরকার।

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator