খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
সুন্দরবনের যে কোনও এলাকায় যদি কেউ স্বাভাবিক সময়ে কখনও যান, একটা শব্দবন্ধ মুখে মুখে ঘোরে। “ওই যে বছর আয়লা হল…” আয়লা যেন এই জল-জঙ্গলের মানুষদের ক্যালেন্ডার। ওই দুঃস্বপ্নের বছরটা দিয়েই অনেকে অনেক কিছু মনে রাখেন। “ওই যে বছর আয়লা হল, আমার বড় নাতি সে বছরেই মাধ্যমিক দিল।” “ওই যে বছর আয়লা হল, আমাদের গরুটা সেবারই বাছুর দিল।” সেই সুন্দরবনই বলছে, এবার হয়তো আয়লার পরের ক্যালেন্ডারে মনে রাখার মতো দিন হবে ২০ মে ২০২০। সৌজন্যে সুপারসাইক্লোন উমফান। ১১ বছর আগের সেই দুর্যোগ আয়লা কার্যত কোমর ভেঙে দিয়েছিল সুন্দরবনের। উমফানও তাই ভাঙল, তবে আরও মর্মান্তিক ভাবে। কারণ এক তো এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি, আর দুই, আয়লার পরে এখনও উঠে দাঁড়ানো শেষ হয়নি সুন্দরবনের। মাঝে বুলবুলও একটা ধাক্কা দিয়েছে ছোটখাটো। গদখালি পৌঁছে স্থানীয় এক ছোট্ট দোকানদারের কাছে এই কথাগুলো শোনার পরে লঞ্চঘাট অবধি পৌঁছে অপেক্ষা করতে হল অনেকটাই। দু’টি বাসে করে ফিরেছেন এক দল পরিযায়ী শ্রমিক। পাঞ্জাব থেকে ফিরেছেন তাঁরা। সকলকে লাইন করে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড় করিয়ে, থার্মাল স্ক্রিনিং করিয়ে, লঞ্চে করে পার করানো হচ্ছে তাঁদের। জেটির দিকে তাকালে বোঝা যায়, কতটা ধকল সহ্য করেছে প্রাচীন এই ঘাট। শেড ভেঙে গেছে, ভেঙে গেছে নোঙর করার কয়েকটি স্ট্যান্ডও। অনেকগুলি নৌকা ও লঞ্চ ভেঙেচুরে ক্ষতিগ্রস্ত। যেগুলি ভাল আছে, সেগুলি নিয়েই ফের চলাচল শুরু করেছেন মাঝিরা। সুন্দরবনের সঙ্গে যোগাযোগের লাইফলাইন এই বিদ্যাধরী নদী, বলছিলেন শেখ রাজু, আমাদের নৌকোর মাঝি। গোসাবাতেই থাকেন তিনি। পরিবারের বাকি সদস্যরা থাকেন বালি। ঘরের একটি অংশ ভেঙে গেছে। তবে রাজুর পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই স্কুলবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন সরকারি নির্দেশে। তাই কারও ক্ষতি হয়নি।
