খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
মকসুদকে মনে আছে? নাম জানতে চাওয়ায় ভেবেছিলেন অভিযোগ জানাতেই একথা জিজ্ঞেস করছেন। আগে কেউ কোনও দিন তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেনি। মুন্নাভাই নাম জেনে নিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। আবেগে চোখে জল এসে গিয়েছিল মকসুদ ভাইয়ের। পা ধুইয়ে দেওয়ার পরে অনেকটা একই অবস্থা হয়েছিল জলপাইগুড়ির হরিজন বস্তিতে থাকা সাফাইকর্মীদের।
সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখা তো বটেই, এই লকডাউনে যাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা সাফাইকর্মী ছাড়া আর কেউ নন। জলপাইগুড়িতে সেই হরিজন সাফাইকর্মীদের পা ধুইয়ে সংবর্ধনা জানালেন সেবা ভারতীর সদস্যরা কারণ সমাজকে সাফ সুতরো রাখার পাশাপাশি করোনার মোকাবিলায় প্রথম সারিতে থেকে তাঁরাও করোনা যোদ্ধা। মুন্নাভাইয়ের কথার জের টেনে বলতে হয়, সকলে ডাক্তারবাবুদের ধন্যবাদ দেন, তাঁদের কেউই ধন্যবাদ দেন না।
শুক্রবার বিকেলে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ সাফাই কর্মী মিলে প্রতিদিনের মতো রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে আবর্জনা সাফ করছিলেন। হঠাৎই তাঁদের ডেকে নেন সেবা ভারতী উত্তরবঙ্গ শাখার সদস্যরা।
তাঁরা এলে তাঁদের চেয়ারে বসিয়ে পায়ের কাছে গামলা রেখে প্রথমে পা ধুইয়ে দেন। তারপরে প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের আরতি করে পায়ে ফুল দিয়ে পুজো করেন। তাঁদের হাতে গ্লাভস, মাস্ক ও মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে আপ্যায়ন করেন সংস্থার সদস্যরা। জীবনে প্রথম এমন সংবর্ধনা পেয়ে আপ্লুত জলপাইগুড়ির হরিজন বস্তির চার সাফাই কর্মী।
সংবর্ধনা পেয়ে মহিলা সাফাই কর্মী অনিতা রাউত বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু কোনও দিন সংবর্ধনা পাইনি। আজ আমার মন আনন্দে ভরে গেল। আমি বাড়ির বাচ্চাদের সবসময় বলি করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তো কী হয়েছে? সাবধানে থেকে আমি অবশ্যই সাফাই কাজ চালিয়ে যাব। আর এই পরিস্থিতিতে আমি যদি এই কাজ করতে গিয়ে মারাও যাই তবে প্রশাসন ও শহরের বাদবাকি লোক তোদের দেখবে।”
সেবা ভারতীর সদস্য সৌপ্তিক ঘোষ বলেন, “এঁরা সারা বছর পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখেন। তার উপর এখন আবার করোনা পরিস্থিতি। এই যোদ্ধাদের অবদান কারও চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। তাই আমরা আজ এঁদের পা ধুইয়ে সংবর্ধনা দিলাম। আমাদের দেখাদেখি সমাজের আরও কেউ যদি এঁদের জন্য এগিয়ে আসেন তবে আমাদের এই কাজের সার্থক হবে।” সম্প্রতি জেলায় জেলায় চালু হয়েছে বাস পরিষেবা। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ফিরে যাচ্ছেন লকডাউনের ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা মানুষজন ও পরিযায়ী শ্রমিকরা। পাশাপাশি পয়লা জুন থেকে চালু হবে ট্রেন। অনেকেই মনে করছেন এর ফলে লাফিয়ে বাড়তে পারে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা। তখন আরও বেশি করে পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা দরকার। এই পরিস্থিতিতে সমাজের অবহেলিত মানুষজনকে এই ভাবে সম্মানিত করায় তাঁরা কাজে উৎসাহিত হবেন।
