লকডাউনে অনেক ছাড় মিললেও সতর্ক থাকতে হবে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

Sunday, May 31, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
পঞ্চমদফায় লকডাউন শুরু হচ্ছে সোমবার। এবার চলবে একমাস। ৩০ জুন পর্যন্ত। এই লকডাউনে অনেক কিছুতেই ছাড় ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। তবে দেশ এখনও করোনা সংক্রমণের ভয় মুক্ত নয়। তাই দেশেবাসীকে এখনও সতর্ক থাকতে হবে। রবিবার তাঁর ৬৫ তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ এর ভয় এখনও আছে, আমাদের এখনই খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে, আরও যা যা সতর্কতা অবলম্বন করা যায় তা করতে হবে। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।” প্রধানমন্ত্রী চতুর্থদফার লকডাউনের শেষ দিনে যখন তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন তার কিছুক্ষণ আগেই এদিনের বুলেটিন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আর সেই রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮,৩৮০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দেশে। এখনও পর্যন্ত একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা এটাই সবচেয়ে বেশি। আর এদিনই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ছাড়াল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “এখন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই চালু হয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্বেও ছ’ফুটের দূরত্ব (দো গজ কি দুরি) বজায় রাখতে হবে। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে আর যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকতে হবে। আমাদের এখনও আরও বেশি করে সজাগ থাকতে হবে। সকলের সহযোগিতা পেলেই কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে দেশ কঠিন লড়াই লড়তে পারবে।”

এদিন প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘সাধারণ মানুষের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এখনও অনেক পথ হাঁটতে হবে আমাদের। আমরা এমন এক মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছি যা সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতা কম।” দীর্ঘ সময় লকডাউনের মধ্য দিয়ে চলছে দেশ। ২৫ মার্চ শুরু হয় প্রথম দফার লকডাউন। প্রথমে যা ছিল ২১ দিনের তা এখন দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দফায় দফায় লকডাউনের মেয়াদ বেড়েছে। সোমবার থেকে শুরু হতে চলা পঞ্চমদফার লকডাউনে যে অনেক ছাড় মিলতে চলেছে তা শনিবারই ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, কনটেনমেন্ট এলাকার বাইরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দেওয়া হবে। এখনও কনটেনমেন্ট জোনের মধ্যে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। সেটুকু ছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও হসপিটালিটি সার্ভিস খুলে যাচ্ছে। খুলে যাচ্ছে শপিং মল, ধর্মস্থানও। নিয়ম মেনে অফিস কাছারিও খোলা যাবে। বাকি থাকছে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বিমান, মেট্রো রেল, বার ইত্যাদি কয়েকটা ক্ষেত্র। এই ঘোষণার পর দিনই ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, অনেক কিছু খুলে গেলেও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না। করোনা সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হলেও সেটা সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। সজাগ থাকতে হবে সাধারণ মানুষকেও।
তবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে ভারত অনেক দেশের থেকে অনেকটা এগিয়ে সেটাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “আমরা যখন অন্য দেশের দিকে তাকাই তখন বুঝতে পারি কত বড় সাফল্য পেয়েছেন ভারতীয়রা। আমাদের জনসংখ্যা অনেক দেশের থেকেই অনেক অনেক বেশি। কিন্তু তা সত্বেও দেশে মারাত্মক ভাবে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। দেশে মৃত্যুর হারও খুবই কম।” মোদী এদিন বলেন, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের প্রতিটি মানুষের ভূমিকা রয়েছে। দেশের মধ্যে ‘সেবা শক্তি’ প্রকাশ পেয়েছে। অপরকে সাহায্য করতে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। মোদীর কথায়, এই মহামারীর ধাক্কা সমাজের সব শ্রেণির মধ্যেই পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছেন দেশের গরিব ও শ্রমিকরা। তাঁদের যন্ত্রণার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator