উমফানে বিধ্বস্ত পাকা ধানে ভরা বিস্তীর্ণ জমি, ভেসে গেল ঘরে তুলে রাখা ফসলও! কৃষকদের হাহাকার দক্ষিণবঙ্গে

Thursday, May 21, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
সংকটের যেন আর শেষ নেই তাঁদের। এমনিতেই করোনা-সমস্যায় বিপদের শেষ ছিল না গত কয়েক মাস ধরে। তার উপরে উমফানের চরম তাণ্ডব যেন ধ্বংস করে দিল রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থা। কৃষকদের পরিস্থিতি শোচনীয়। কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে লকডাউন জারি থাকায় কৃষি শ্রমিকদের সমস্যা হয়েছিল ইতিমধ্যেই। এর পরে নাগাড়ে ঝড়বৃষ্টিতে মাঠেই নষ্ট হয়েছিল বহু পাকা ধান। হারভেস্টার মেশিনের সংখ্যা এ রাজ্যে পর্যাপ্ত নয়।
অন্যান্য বছর পঞ্জাব থেকে প্রচুর সংখ্যক হারভেস্টার মেশিন আসে, এবার লকডাউনে তা হয়নি। তার উপর গতকাল রাতভর উমফানের তাণ্ডবলীলায় বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম, ভাতার এলাকার চাষিরা তীব্র ক্ষতিগ্রস্ত। জেলার অন্যান্য এলাকায় যেমন খণ্ডঘোষ, গলসি, মেমারি এলাকায় চাষিরা তবু অনেকটাই ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছিলেন। কিন্তু কালকের তাণ্ডবে সে সব ভেসে গেছে। ভাতার বা আউশগ্রামের ডিভিসির সেচখাল এলাকায় আবার জমির সিংহভাগ ধানই মাঠে পড়ে ছিল, নষ্ট হয়ে গেল সব। কোনও কোনও কৃষক ঝড়ের আগাম আঁচ পেয়ে ত্রিপল দিয়ে ফসল ঢেকে রেখেছিলেন রাস্তার ধারে। কিন্তু উমফানের তাণ্ডবে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ত্রিপল কোথায় উড়ে চলে গেছে, ধান ভিজে গেছে। কয়রাপুর, আমগোনা, বিল্বগ্রাম, নওয়াদা, আলিগ্রাম, ভোতা-সহ কমবেশি ২০টি গ্রামের কৃষকদের এখন মাথায় হাত। অনেক কৃষকই ব্যাঙ্ক বা সমবায়ের পাশাপাশি মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন কী করে ধারদেনা শোধ করবেন, কী করেই বা সামনের মরসুমে খরিফের চাষ করবেন ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। ধানের বীজতলা তৈরি থেকে রোয়া, সার দেওয়া, কীটনাশক ও শ্রমিক নিয়ে বিঘে প্রতি গড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁদের। এখন সেই উৎপাদনের খরচটুকুও উঠবে না বলে হাহাকার করছেন সকলে। বাঁকুড়া জেলা জুড়েও উমফানের প্রভাবে বিধ্বস্ত কৃষকরা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট বৃষ্টির পরিমাণ ৫১.৪ মিলিটার। ফলে বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষে ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় সর্বত্রই গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে সোনামুখী ব্লক এলাকার গ্রামগুলিতে দেখা যায়, বোরো ধানের জমি সব জলে ডুবে আছে। পাকা ধান বাড়িতে তোলার আগেই সব শেষ হয়ে গেল অনেক কৃষকের। একই ছবি দক্ষিণের তালড্যাংরা, সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গা ব্লক এলাকাতেও। এই এলাকার বোরো ধানের পাশাপাশি তিল জাতীয় তৈলশস্যের জমিতেও প্রচুর পরিমানে জল জমে আছে। সারেঙ্গার আগয়া গ্রামের কৃষক ভাগবৎ দাশ চক্রবর্তী বলেন, “লকডাউনের কারণে এমনিতেই টানাটানির সংসার। এবার উমফানের দাপটে বোরো ধান ও তৈল শস্যেও প্রচুর ক্ষতি হলো। আগামী দিন গুলি কীভাবে কাটবে ভেবে পাচ্ছি না।” দেরি না করে উমফানের আগেই পাকা ধান কাটতে মাঠে নেমেছিলেন গ্রামীণ হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর, আমতা ২, আমতা ১-সহ বিভিন্ন ব্লকের বহু কৃষক। কেটেও ফেলেছিলেন অনেকটা শস্য। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। গোলার পর গোলা ধান ভেসে গেল উমফানের দাপটে। ঘরের ভিতের যাঁরা বস্তা করে ধান তুলে রেখেছিলেন, মাথায় হাত তাঁদেরও। গোটা রাজ্যের কৃষিতে যে বড় ক্ষতি হল, তা কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে ভেবে পাচ্ছেন না কেউই। সরকারের তরফে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এ ক্ষতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন।সূত্রঃ thewall

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator