উমফান ত্রাণে ৫০ লক্ষ টাকা দান করলেন রাজ্যপাল, মোদী-মমতার সঙ্গে হেলিকপ্টারে পরিদর্শনে থাকছেন ধনকড়ও

Friday, May 22, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ

উমফান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্রাণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে ব্যক্তিগত ভাবে ৫০ লক্ষ টাকা দান করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ঘূর্ণিঝড়ের অভিঘাত প্রকৃতপক্ষে কতটা, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির আগেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই প্রথম কেউ এত বড় অনুদানের কথা ঘোষণা করলেন। আজ শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিপর্যস্ত এলাকা হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল সকাল টুইট করে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনিও সঙ্গী হবেন মোদী-মমতার। বিপর্যস্ত এলাকা কপ্টারে ঘুরে দেখবেন তিনিও।

হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালকেও নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। গত প্রায় ২ মাস ধরে কোভিড মোকাবিলা নিয়ে নবান্ন ও রাজভবনের শঠে শাঠ্যং লেগেই রয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যপাল। রেশন দুর্নীতির প্রসঙ্গেও তিনি সরকারকে বারবার সতর্ক করেছেন। আর সেই সঙ্গেই রাজ্যপাল কার্যত বুলেটিনের মতো রাজ্যবাসীকে নিয়মিত আপডেট করার চেষ্টা করেছেন যে, কেন্দ্র কত চাল, ডাল, গম পাঠিয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা খাতেই বা কত টাকা রাজ্যকে দিয়েছে কেন্দ্র। বিপরীতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, রাজ্যপাল যেন ভুলে না যান যে তাঁর কোনও প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। তিনি মনোনীত রাজ্যপাল। নির্বাচিত নন। রাজ্যপালের নানা প্রশ্ন ও চিঠির জবাবে শীতল থেকেছে নবান্ন। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ধনকড়ের প্রতি নবান্নের এই মনোভাব এবং প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। উমফানের ক্ষতিপূরণের জন্য কেন্দ্র অনুদান দিলে তার বার্তা লাগাতার রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছনোর ভূমিকা নিতে পারেন রাজ্যপাল। রাজ্য বিজেপির এক নেতা শুক্রবার সকালে বলেন, আজকের দিনটা অনেক ভাবেই আলাদা। অতীতে ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ওড়িশার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেছিলেন। সে বার পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুণ্ডা এয়ারবেসে এসে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নবান্ন সাড়া দেয়নি। এমনকী ফণীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে দু’বার ফোন করেছিলেন মোদী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ফোন ধরেননি বলে পরে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ বার ভাল যে, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। কারণ, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ছাড়া এত বড় বিপর্যয় মোকাবিলা করা দ্রুত মানুষকে সুরাহা দেওয়া সম্ভব নয়।

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator