সূর্যগ্রহণেই কি কমবে করোনার সংক্রমণ? গুগল সার্চে হন্যে হয়ে চলছে খোঁজ

Saturday, June 20, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
আগামীকাল সূর্যের বলয়গ্রাস গ্রহণকে নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। গত ১০০ বছরে এত দীর্ঘ গ্রহণ নাকি দেখা যায়নি। পৃথিবী থেকে সূর্যকে দেখাবে আংটির মতো, দেখা যাবে সূর্যের করোনা স্তরও। এই সূর্যগ্রহণকে ঘিরেই গত কয়েকদিন ধরে যে প্রসঙ্গটা সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে, সেটা হল গ্রহণেই নাকি মরবে করোনাভাইরাস। সূর্যের করোনা ভাইরাস করোনাকে ধ্বংস করে দেবে। চেন্নাইয়ের এক বিজ্ঞানীর বক্তব্যকে ঘিরে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক জুড়ে গিয়ে গুগলের ট্রেন্ডিং টপিক হয়ে উঠেছে। সূর্যগ্রহণ করোনা মারতে পারবে কিনা, সেটাই এখন হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে গুগল সার্চে।

করোনার সঙ্গে সূর্যগ্রহণের সম্পর্ক আছে এমন দাবি দিনকয়েক আগেই করেছিলেন চেন্নাইয়ের নিউক্লিয়ার ও আর্থ সায়েন্টিস্ট ডক্টর কেএল সুন্দর কৃষ্ণা। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ভাইরাস পৃথিবীতে এসেছে মহাজাগতিক ঘটনার কারণেই। তার জন্য সূর্যগ্রহণই দায়ী, এমন দাবিও করেছিলেন বিজ্ঞানী। তারপর থেকেই গুগল সার্চে এই বিষয়টা সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে এবং এখনও সার্চ ইঞ্জিনের ট্রেন্ডিং টপিক এটাই।


বিজ্ঞানীর দাবি কী ছিল? গত বছর ২৬ ডিসেম্বর ছিল সূর্যগ্রহণ। তার থেকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। ডক্টর সুন্দর কৃষ্ণার বক্তব্য, ওই সূর্যগ্রহণের সময়েই বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরে এমন একটা বায়ো-নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশন হয়েছিল যার কারণেই ভাইরাসের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ এই ভাইরাস আর পাঁচটা সাধারণ ভাইরাসের মতো নয়।

থিওরি দিয়ে বিজ্ঞানী বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তড়িদাহত কণা অর্থাৎ প্রোটন-নিউট্রনের মধ্যে এমন একটা বিক্রিয়া হয়েছিল যার কারণে করোনার নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। বায়ো-নিউক্লিয়ার ইন্টার‍্যাকশনের কারণেই এই ভাইরাস পৃথিবীতে চলে এসেছে।

সূর্যগ্রহণ ও করোনার সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীমহলেও তুমুল আলোচনা চলছে। বিজ্ঞানীরা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, মহাজাগতিক কোনও ঘটনা এই ভাইরাস সংক্রমণের কারণ নয়। করোনাভাইরাস আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিল। ১৯৮৬ সালে প্রথম এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করে তার নামকরণ করা হয়। সূর্যকে ঘিরে যেমন মুকুটের মতো তার উজ্জ্বল করোনা স্তর থাকে, তেমনি এই ভাইরাসের খোঁচা খোঁচা মুকুটের মতো স্পাইক প্রোটিনের কারণেই এর নাম হয়েছে করোনা। এই করোনা এসেছে ‘ক্রাউন’ অর্থাৎ মুকুট থেকে। আর সূর্যের করোনা হল বহিঃস্তর। সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ ও তেজের কারণে ঢাকা থাকে। গ্রহণের সময়েই সূর্যের করোনা দেখা যায়। আর পৃথিবী থেকে সূর্যের যা দূরত্ব সেখানে সূর্যের করোনার পক্ষে কোনওভাবেই ভাইরাস করোনাকে কাবু করা সম্ভব নয়।

গবেষকরা বলছেন, যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তরের কথা ভাবা হয়, তাহলে ডক্টর সুন্দর কৃষ্ণা যে আয়নোস্ফিয়ার স্তরের কথা বলেছেন সেটি রয়েছে ভূপৃষ্ঠের ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার উপরে। সূর্যরশ্মির প্রভাবে সেখানে তড়িদাহত কণা তৈরি হয়। এই আয়নোস্ফিয়ারকে কাজে লাগিয়েই রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে বার্তা লেনদেন করা হয়। ওই স্তরে কোনওভাবেই ভাইরাস তৈরি হতে পারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাস ঠেকাতে হলে পারস্পরিক দূরত্ব, মাস্ক, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার দরকার। কোনও কাল্পনিক ভাবনার উপর ভিত্তি করে থাকার মানেই হয় না। সূর্যগ্রহণের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করা যায় না।
সুত্র: thewall

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator