খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেরিয়েছিলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন কল্পনা রায়, (৩৮) । লকডাউন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের দেওয়া খাবার খেয়েই চলছিল দিন। একমাস আগে দুই একজন দোকানদার মেরে তাড়িয়ে দিলে, রাস্তার ধারে পরেছিল। জলপাইগুড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। তবে অনেকদিন কাটলেও কল্পনার খবর নেয়নি কেউ। হাসপাতালের কর্মীদের সেবাযত্ন পেয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ। হাসপাতাল থেকে অনেকদিন আগেই ছুটি হয়ে যায়। কোথায় যাবে ? কোথায় বাড়ি ? কেউ জানে না। অবশেষে হাসপাতাল কর্মীদের দুই একজন যোগাযোগ করেন গ্রীন জলপাইগুড়ি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে। সংস্থার মহিলা সদস্যরা কল্পনার সাথে কথা বলেন। টুকরো টুকরো তথ্য সংগ্রহ করে, অভিযান চলে বাড়ি খোঁজার। সংস্থার আলীপুরদুয়ার টিম চষে বেড়ায় এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অবশেষে সন্ধান পাওয়া যায় পরিবারের।আজ ঘরে ফেরার পালা। গ্রীন জলপাইগুড়ি টিম কল্পনাকে সাথে নিয়ে পৌঁছে যায় ওর বাবার বাড়ি ফালাকাটা ব্লকের ছোট শাল কুমার এলাকার হরি মন্দির এলাকায়। কল্পনার বাবা রমেশ রায় অনেক বছর আগেই গত হয়েছেন। মা প্রমেদ রায় ও দিদিরা কল্পনাকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। ওর স্বামী তথা মাদারী রোড দশ মাইল এলাকার বাসিন্দা বরুন দাস দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ইতিমধ্যে। কল্পনার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারাও মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন। এবার হাসি ফুটবে সকলের মুখে। পরিবার খুঁজে পেয়ে বেজায় খুশি কল্পনা রায়।।
গ্রীন জলপাইগুড়ি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অংকুর দাস জানান,আমরা কল্পনাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে, গর্বিত ও আনন্দিত। সুখে থাকুক কল্পনা। আমরা বিগত দিনেও এই ধরনের কর্মসূচি পালন করছি এবং আগামী দিনেও এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
