চোপড়ায় চাঞ্চল্য, এবার অভিযুক্ত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

Monday, July 20, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
চোপড়ায় অশান্তি ও উত্তেজনা আজ সোমবারেও অব্যাহত।
সোনারপুর গ্রামপঞ্চায়েতের যে এলাকায় কিশোরীর মৃতদেহ মিলেছিল, এ দিন সকালে তার থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে একটি পুকুর থেকে পাওয়া গিয়েছে অভিযুক্ত যুবকের নিথর দেহ। বসলামপুর এলাকায় এর পর থেকেই উত্তেজনা আরও ছড়িয়েছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। যদিও ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার শচীন মক্কার আগেই দাবি করেছেন, শরীরে বিষক্রিয়ার কারণেই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনও প্রমাণ বা সে ধরনের কোনও কিছু কিশোরীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পাওয়া যায়নি।

এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে চোপড়া। এই মর্মান্তিক ঘটনার শোকাহত গোটা এলাকা। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে এরপরেই রবিবার বিকেলে জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু হয়। অবরোধ তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ। সরকারি বাস ও পুলিশের গাড়িসহ ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এই ঘটনায় মোট ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


এমনিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্তারা। তার মধ্যে হঠাৎই এ ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবার বিকেল থেকেই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। এ ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে যাতে কেউ অন্য মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা না করেন সে জন্যও প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

ইসলামপুর পুলিশের এক পদস্থ অফিসার সোমবার সকালে বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা যে মর্মান্তিক তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অভিযুক্ত যুবকের দেহ যে ভাবে পাওয়া গিয়েছে তাও রহস্যজনক। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে। সাধারণ মানুষের উচিত উত্তেজনা না বাড়িয়ে তদন্তে সাহায্য করা।

যদিও কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার রাত থেকেই পথে নেমেছে বিজেপি ও দলের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। শুধু চোপড়াই নয় রবিবার রাতে এবিভিপি রাস্তা অবরোধ করে ধূপগুড়িতেও। পুলিশের সঙ্গে চলে খণ্ডযুদ্ধ। সংগঠনের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর সোমবার সকালেই সৎকারের জন্য মৃত কিশোরীর দেহ তাদের আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ। তবে বিজেপি নেতাদের আসার অপেক্ষায় মরদেহ নেননি কিশোরীর পরিবার।

চোপড়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওখানে সমাজবিরোধী, দেশবিরোধীরা ঘাঁটি গেড়েছে। অথচ সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কারণ তারা তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে বলে।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের জেলা সভাপতি এমন এমন বিবৃতি দিচ্ছেন যাতে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে। একটা ১৬ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, কিন্তু কোনও মানবিকতা বোধ নেই। সরকারের উচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলে আস্থা ফিরিয়ে আনা। নাহলে আরও ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে।”

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator