খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
2nd Update: বিজেপি–র নবান্ন অভিযানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে। সাঁতরাগাছি ও হেস্টিংস দিয়ে এগোতে থাকা মিছিল আটকাতে বিশাল ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করে পুলিশ। কিন্তু দুই এলাকাতেই ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে। হাওড়া ময়দানেও ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে বিজেপি–র কর্মী–সমর্থকরা।
পরিস্থিতির জেরে হেলমেটে মাথা ঢাকেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। হেস্টিংসের মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়ার সময় তাঁর অভিযোগ, ‘হেস্টিংস মোড়ে বিজেপি–কে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ছে পুলিশ। বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছেন বহু কর্মী–সমর্থক।’ ওদিকে, বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হেস্টিংসে পুলিশকে লক্ষ্য করে কাঁচের বোতল ছোঁড়া হয়েছে। হাওড়া ময়দানে এক বিক্ষোভকারীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট–পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ্য করে বোমাও ছোঁড়া হয়েছে।
সাঁতরাগাছিতে আহত হয়েছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তার প্রতিবাদে পুলিশের কিয়স্কে ভাঙচুর চালায় বিজেপি–র কর্মী–সমর্থকরা। সাঁতরাগাছিতে বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ জলকামান দিয়ে রঙ–মেশানো জল স্প্রে করে। পাশাপাশি একের পর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। হেস্টিং মোড়, হাওড়া ময়দানেও বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়েছে।
1st Update: আজ ফাঁকা নবান্নে বিজেপি’র অভিযান। এই উপলক্ষ্যে বিজেপি’র সর্বভারতীয় যুব মোর্চার সভাপতি তেজস্বী সূর্য সাতসকালেই পৌঁছে গেলেন স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে। সেখানে আশীর্বাদ নিলেন স্বামীজির কাছ থেকে। তারপরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সেই ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হল। সেখান থেকেই তাঁরা আওয়াজ তুললেন ‘পায়ে পায়ে উড়িয়ে ধুলো, এবার সবাই নবান্ন চলো।’ কিন্তু নবান্নে তো স্যাননিটাইজেশনের কাজ চলছে।
এই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে নেমে শক্তিপ্রদর্শন করছে তাঁরা। ইতিমধ্যেই ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে রাস্তা অবরোধ করেছে বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। ধুলাগড়ে পুলিশ বিজেপি’র বাস আটকাতেই কর্মী–সমর্থকরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। তাতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। সেনারপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ভাঙচুর করে তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। তারপর কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে চিৎকার করে জয় শ্রী রাম বলতে থাকে।
এদিনের নবান্ন অভিযানে বিবেকানন্দের বাড়িতে যাওয়া বিজেপি নেতারা তারপর নবান্নের উদ্দেশ্যে মিছিল করে বেরিয়ে পড়ে। কোনওরকম বিশৃঙ্খলা যাতে করতে না পারে তার জন্য এই মিছিলের আগে পুলিশ ও র্যাফ ছিল। বিজেপি যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্যের সঙ্গে পা মেলান সৌমিত্র খান, নিশীথ প্রামাণিক–সহ আরও অনেক হেভিওয়েট নেতা। এখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তেজস্বী বলেন, ‘মমতা দিদি ভয় পেয়েছেন, ইয়ে ডর আচ্ছা হ্যায়।’ শিল্প, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা–সহ একাধিক দাবিতে বিজেপি’র যুব মোর্চার এই নবান্ন অভিযান কর্মসূচি। যার সঙ্গে যোগ হয়েছে টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনার ইস্যুও।
