খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
গত ৮ই অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল দিল্লির মালভিয়া নগর এর এক ছোট্ট খাবার দোকান কে নিয়ে। কান্তা প্রসাদ নামে এক বৃদ্ধ এবং তার স্ত্রী মিলে এই ছোট্ট খাবার দোকানটি চালান এবং লকডাউনে তাদের করুণ দুর্দশার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছিল এক ব্যক্তির হাত ধরে এবং তার পরেই ঘটে যায় বদল। বাবা কা ধাবা রীতিমত বিখ্যাত হয়ে যায় বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের সাইনবোর্ড বসায় বাবার দোকানের সামনে এবং প্রবল ভীড় জমতে থাকে সেই ধাবায়। কান্তা প্রসাদের ভাগ্য খুলে যায়। এমনকি বেশকিছু বলিউড সেলিব্রিটিও গোটা ঘটনাটি নিয়ে টুইট করেন। সোশ্যাল মিডিয়াকে ধন্য ধন্য করতে শুরু করেন সবাই।
কিন্তু এখন গোটা পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। বাবা কা ধাবা এখন সম্পূর্ণ মাছি তাড়াচ্ছে। ঘটনার মাত্র ১৫ দিন পরেই বাবা কা ধাবা আবার সেই পুরনো অবস্থায় ফিরে এসেছে। কোম্পানি গুলি বেশিরভাগ তাদের সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে গিয়েছে। খেতেও আসছেন অল্প কয়েকজন। অধিকাংশ মানুষ আসছেন বাবার সঙ্গে সেলফি তুলতে বা বাবার দোকানের সামনে ভিডিও করতে। কান্তা প্রসাদ নিজের মুখে অসহায় গলায় বলছেন যে আপনারা “দয়া করে খেতে আসুন, সেলফি তুলতে না!” মানবিকতা এইভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানোর জিনিস নয় এটা বাস্তবে প্রয়োগ করুন, কাতর স্বরে অনুরোধ করছেন বাবা।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাবার এই করুণ আর্জি দেখা গেল। দোকানে লোকের ভিড় একদম নেই। ভোলেবাবা যে তিমিরে ছিলেন আবার সেই তিমিরেই চলে এসেছেন।
তবে বলিউডের একজন পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার বাবাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নাকি এখন কান্তা প্রসাদ এর দোকানের পিআরের কাজ করছেন। দোকানেই থাকে সারাক্ষণ দেখা যায় বাবাকে সাহায্য করতে এবং বাইরের মানুষদের সঙ্গে কথোপকথন চালাতে। তিনি জানালেন যে তিনি কোন অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে কান্তা প্রসাদ কে সাহায্য করছেন না ।সম্পূর্ণ মানবিকতার খাতিরেই তিনি কাজটি করছেন যাতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাবার দোকান কে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তাই একথা বলাই যায় যে সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই হুজুগে। যেভাবে একদিনে বাবাকে রাজা বানিয়ে ছিল সেই ভাবে কিছু দিনের মধ্যেই বাবাকে আবার ফকির বানিয়ে ছেড়েছে।
