খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
দীপাবলির ঠিক আগেই তেহট্টের রঘুনাথপুর গ্রামের আলো যে এভাবে নিভে যাবে তা কে জানত। শুক্রবার দুপুরে প্রথমে বিনা প্ররোচনাতে ভারতীয় ছাউনিতে শেলিং চালায় পাক সেনা। তারপর থেকেই শুরু হয় ভারত-পাক সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গুলিযুদ্ধ, মর্টার শেলিং।
সীমান্তের গ্রামের পর গ্রাম খালি করে দেওয়া হয়। আত্মরক্ষার স্বার্থে গ্রামবাসীরা আশ্রয় নেয় বাঙ্কারে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। পাক গুলিতে সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের এক সাব-ইন্সপেক্টর-সহ পাঁচজন নিরাপত্তারক্ষী ও ছ’জন নিরীহ গ্রামবাসী প্রাণ হারান। শহিদ জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন নদিয়ার তেহট্টের ওই বাঙালি যুবক সুবোধ।
দীপাবলির আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল পাক সেনা। সেই মত ভারত-পাক সীমান্তে তৈরি হয় চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি। ভারতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে দাওয়ার, উরি, সৌজিয়ান, তাংধার, মাচিল, কেরান-এ একের পর এক সেক্টর জুড়ে চলতে থাকে নিরন্তর গুলির লড়াই। এর কড়া জবাব দিয়েছে ভারতও। পাকিস্তানের একের পর এক বাঙ্কার উড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। এই গোলাগুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারান সুবোধ।
সুবোধের মৃত্যুর খবর বাড়িতে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার, সারা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে গানারের পদে ছিলেন সুবোধ। নিজের দক্ষতায় চার বছর আগে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। গত জুলাই মাসে শেষবার তিনি বাড়ি এসেছিলেন এক মাসের কিছু বেশি সময়ের জন্য। বিবাহিত ছিলেন সুবোধ। তিন মাসের কন্যাসন্তানও রয়েছে তাঁর।
সুবোধের মা বাসন্তী ঘোষের চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না। তার মধ্যেই বলেন, ‘বিকেলে কাশ্মীর থেকে ফোন আসে। সেই ফোনে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুলিতে আমার ছেলে প্রাণ হারিয়েছে।’
সুবোধের স্ত্রী অনিন্দিতা ঘোষ স্তম্ভিত দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন। একটু সম্বিত ফিরে তিনি কাঁদতে–কাঁদতে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। আমার স্বামী বহুবার ফোন করে মেয়ের খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে ফোন বন্ধ। তখনও বুঝিনি আমার এমন সর্বনাশ হয়েছে।’
সুবোধ স্ত্রীকে বলেছিলেন, সামনের মাসেই আবার ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন, কিন্তু তা আর হল না। বাড়িতে ফিরলেও সুবোধের দেহ গ্রামে ঢুকবে কফিনবন্দি হয়ে।
