খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বাঁকুড়া : চার দিনের জেলা সফরে এসে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী যখন বাঁকুড়ায়, ঠিক তখনই শাসক দলে বড়সড় ভাঙ্গন ধরালো বিজেপি। বুধবার বাঁকুড়া শহরের রামপুরে একটি বেসরকারী লজে শালতোড়া ও গঙ্গাজলঘাটি এলাকার যথাক্রমে ৬০ ও ২০ টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে তাঁদের দলে যোগ দিলেন বলে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া ওই পরিবার গুলির হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বাঁকুড়া জেলা বিজেপি সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র।
শালতোড়ার আশরাফ খান থেকে গঙ্গাজলঘাটির অসিত বরণ ধীবররা বলেন, তৃণমূলের লাগাতার ‘অত্যাচারে’র কারণেই তাঁরা দল ছেড়েছেন। চলতি পরিস্থিতি থেকে একমাত্র বিজেপিই মুক্তি দিতে পারে বলে তাঁরা জানান। বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, ” শুনুকপাহাড়িতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় জনসভা করছেন, তখন ঐ দল ছেড়ে মানুষ বেরিয়ে আসছেন। ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল দাবি করে তিনি আরও বলেন, ঐ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, কোনও উন্নয়ন হয়নি মানুষ এটা বুঝে গিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেও পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল কোথাও হাসছে না। মুখ্যমন্ত্রী এই জেলায় যে আদিবাসী গ্রামে গিয়েছিলেন, সেখানকার মানুষ স্পষ্ট তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও উন্নয়ন হয়নি। এই অবস্থায় মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতে তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।” অন্যদিকে, আজ বুধবার বাঁকুড়াতে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখান থেকে তিনি বলেন, সিপিএম লোভী, বিজেপি ভোগী কিন্তু তৃণমূল ত্যাগী’। আজ, বুধবার বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ির সভা থেকে এভাবেই বিজেপি ও সিপিএম-কে একযোগে আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, লোকসভা ভোটের সময় জগাই-মাধাই-গদাই এক হয়েছিল ৷
সিপিএম-এর হার্মাদরাই আজ রং বদলে বিজেপি-র হার্মাদে পরিণত হয়েছে। বললেন, বাঁকুড়ায় বিরোধীরা একটা আসনও পাবে না। বিজেপির পায়ে পড়েছে সিপিএম, লজ্জাও করে না! বিজেপি-র দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, আমায় জেলে পুরবে, পুরুক। জেলে বসেও নির্বাচনে লড়ব। আর জিতবও। আজ চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি।
