খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জল্পনা থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে ছবিটা বিশ্বাস করতে বোধহয় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। সত্যিই কী অমিত শাহের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন মমতার প্রথম সারির সৈনিক? চমকের জন্য অপেক্ষা ছিল। গত কয়েকদিনে টানাপোড়েন হয়েছে অনেক। কখনও তমলুকের বাড়িতে ছুটেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কখনও কলকাতায় তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক, শুভেন্দুর কনভয়ের পিছনে ছুটেছে সংবাদমাধ্যমের গাড়ি। দোলাচল ছিলই। কয়েক দশকের সৈনিকের পক্ষে শিবির বদলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই কঠিন ছিল। কিন্তু ক্ষোভের কথা সামনে এসেছে আগেই। তাই শেষ রক্ষা হল না শাসক শিবিরের। অমিত শাহের মঞ্চে হাজির হলেন শুভেন্দু। শনিবার বোধহয় বাংলার রাজনীতি এক নয়া মোড় নিল। এদিনের মঞ্চে অমিত শাহের পাশে শুভেন্দুকে হাত ধরে নিয়ে এলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন শুভেন্দু। হাত উঁচু করে বার্তা দিলেন বাংলাকে।
শুভেন্দু একা নন, একে একে একাধিক বিধায়ক যোগ দিলেন এদিন অমিত শাহের সভা থেকে। এদিন যাঁরা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন এই সভায়, তাঁরা হলেন, সুনীল মণ্ডল (সাংসদ), দশরথ তিরকে (প্রাক্তন সাংসদ), বনশ্রী মাইতি (বিধায়ক, উত্তর কাঁথি, পূর্ব মেদিনীপুর), তাপসী মণ্ডল (বিধায়ক, হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর), অশোক দিন্দা (বিধায়ক, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর), সুদীপ মুখোপাধ্যায় (বিধায়ক, পুরুলিয়া), বিশ্বজিৎ কুণ্ডু (বিধায়ক, কালনা), সৈকত পাঁজা (বিধায়ক, পূর্ব বর্ধমান), শীলভদ্র দত্ত (বিধায়ক, ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগণা), দীপালী বিশ্বাস (বিধায়ক, গাজোল, মালদা), সুকরা মুণ্ডা (বিধায়ক, নাগরাকাটা, জলপাইগুড়ি), শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন মন্ত্রী)। অন্যদিকে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোলবদল করেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলেই আছি, কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, মিটে গেছে। দল ছাড়ার কথা বলা ভুল হয়েছিল, মমতার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব। বিজেপিতে যাব কখনও বলিনি।’