খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
এমনিতেই ভোটের মুখে দলের ভাঙ্গনে চাপে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আজ আধিকারিকদের কাজে ঢিলেমি দেখে ফের মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল অন্য জেলাগুলির তুলনায় এসসি, এসটি সার্টিফিকেট প্রদানের কাজ কম হচ্ছে বীরভূমে। আর এই অভিযোগ সামনে আসার পরই আজকের বৈঠকে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব এ সুব্বাইয়ার ওপর ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের আমজনতার কাছে সরকারি প্রকল্পগুলি কতটা পৌঁছচ্ছে তা পর্যালোচনা করতে এদিন সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
বীরভূমে কাস্ট সার্টিফিকেটের কাজ কেমন চলছে তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান সচিব এ সুব্বাইয়া জানান, গত বছর ৮ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। এবার দুয়ারে সরকার ১৬.৫৯ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ৮–১০ শতাংশ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ভোটের মুখে এহেন কম পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কেনও? বেজায় রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘এসসি, এসটি হওয়াটা জন্মগত ব্যাপার। বাবা, মা, ঠাকুমা, ঠাকুরদার দরকার নেই। পরিবারের একজনের কাস্ট সার্টিফিকেট থাকলেই যে কেউ কাস্ট সার্টিফিকেট করিয়ে নিতে পারবে। অন্য কোনও অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই।’
তখনই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে সুব্বাইয়া বলেন, ‘কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যাপারে ৪–৫টা ক্যাটেগরি রয়েছে।’ আর এর পরই শুরু হয় বাদানুবাদ। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা জানান, ‘ও সব ক্যাটাগেরি আর থাকবে না। সেগুলি পরিবর্তন করা হয়েছে। হয়তো তুমি জানো না। অনেকবার এ নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করা হয়েছে।’ তখনই সুব্বাইয়া জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘কাস্ট সার্টিফিকেটের ব্যাপারে আর কোনও অনুসন্ধান করা হবে না। সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে।’
কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ কম হওয়ায় পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘বীরভূমে কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। অন্য জায়গায় তা অনেক বেশি। ২৮ হাজার লোক কাস্ট সার্টিফিকেট চেয়েছে। কিন্তু পেয়েছে মাত্র ৪ হাজার লোক।’ তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ সুব্বাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘তোমার দপ্তর ঠিক করে কাজ করছে না। কেনও আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? সরকার বারবার বলছে তাড়াতাড়ি কাজ করার কথা।’
সেই সাফাই দিতে আরও এক আধিকারিক অভিযোগ সুরে বলেন, ‘দুয়ারে সরকারের যে পোর্টাল রয়েছে তাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। হ্যাং করে যায়।’ তখনই মেজাজ হারিয়ে মমতা বলেন, ‘আরে ধ্যাত ব্যাঙ। পোর্টাল পোর্টাল করে বেরাচ্ছে। নিজেদের মতো সব করে নিচ্ছে।’ তিনি পরিষ্কার জানান, ‘আমি এটা দেখতে রাজি নই। সুব্বাইয়া তোমার ব্যাপারে আমার ধারণা আজ পাল্টে গেল।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এগিয়ে বাংলা, তাই এগিয়ে গিয়ে কাজ করতে হবে। একটু মানবিক হয়ে কাজ করতে হবে।’ এদিন কাস্ট সার্টিফিকেটের রোজকার রিপোর্ট দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কাস্ট সার্টফিকেটের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে তা দেখতে তিনি বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যসচিবকে। কেনও যথাসময়ে আশানরূপ হচ্ছে না তার কারণ বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন এ, বি, সি, ডি করে সবটা বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এ ফর অ্যাভোয়েড, কাজ এড়িয়ে যাওয়া। বি – ব্লক্ড, কাজ করা বন্ধ করে রাখা। সি – ক্যাসুয়াল, কাজকে হালকাভাবে নিয়ে নেওয়া। এবং ডি – ডেডলক, অর্থাৎ অচলাবস্থা, জীবনে কাজ এগোবে না।’