খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
প্রায় নিশ্চিতই ছিল, কিন্তু নিজের মুখে কখনই স্বীকার করেন নি তিনি। কিন্তু আজই যে শুভেন্দুর বিজেপিতে যাওয়ার পালা, সেই খবরে সিলমোহর দিলেন খোদ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। আজকের এই ঐতিহাসিক এক বদলের জন্য লোক জমায়েতের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন ‘দাদার অনুগামীরা’। এবার অপেক্ষা শুধু সভা শুরুর। আজ, শনিবার দুপুর ২টো ৩০ মিনিট থেকে মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে জনসভা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিনই সরকারীভাবে পদ্মশিবিরে নাম লেখাবেন শুভেন্দু। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চললেও আজ ইতি ঘটবে এ জল্পনার।
গতকাল রাতে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানান, মেদিনীপুরে আজকের সভাতেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে আসছেন তৃণমূলের একঝাঁক নেতা, বিধয়কও। বিজয়বর্গীয়র দাবী, শুভেন্দু ছাড়াও তৃণমূলের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য, জেলার ছোটো বড় নেতা, সাংসদ, বিধায়কও বিজেপিতে যোগ দেবেন। তাঁর কথায়, শুভেন্দুর সঙ্গে প্রায় ৫০,০০০ তৃণমূল নেতাকর্মী বিজেপিতে আসতে চলেছেন।
তবে আজ শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলেও তাঁর ইস্তফাপত্র এখনও পর্যন্ত সরকারীভাবে গৃহীত হয়নি। গতকাল শুভেন্দুর ইস্তফাপত্রকে ‘বৈধ’ নয় বলে জানিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিধায়কদের সশরীরে এসে স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিতে হয়। এই কারণে , সোমবার দুপুর ২টোর সময় শুভেন্দুকে তিনি সময় দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইস্তফাপত্র গ্রহণ না হওয়া নিয়ে শুভেন্দুর দিকে আঙুল উঠেছে। অনেকেরই মতে, শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গ্রহণ না হওয়ার অর্থ তিনি এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন। এই অবস্থায় বিজেপিতে যোগ দেওয়া মানে শুভেন্দুর নিজের ‘নীতি’ নিজেরই লঙ্ঘন করা। কিন্তু এই বিষয়ে তেমন আমল দেননি শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠরা। তাদের কোথায়, শুভেন্দু নিজে গিয়েই বিধানসভায় ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু স্পিকার সেই সময় ছিলেন না। তাই তিনি স্পিকারকে মেলও করেছেন। ফলে খাতায় কলমে ইস্তফাপত্র গৃহীত না হলেও, শুভেন্দু নিজের দিক থেকে স্পষ্ট। তাছাড়া, সোমবারই শুভেন্দু বিধানসভায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারবেন, ফলে শুভেন্দুর ‘নীতি’ ভঙ্গের কোনও প্রশ্নই আর থাকছে না।