বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে বিতর্ক, কৈলাস-দিলীপের নামে এফআইআর শিলিগুড়ি পুলিশের

Wednesday, December 09, 2020
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
সোমবার বিজেপি যুবমোর্চার উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে বাঁধে ধুন্ধুমার কাণ্ড। মিছিলে বাধার সৃষ্টি করে পুলিশ। এর ফলে একপ্রকার জোর করেই মিছিল চালাতে বাধ্য হয় বিজেপি। এর জেরে পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তিও হয়। এই নিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে শিলিগুড়ি পুলিশ। তাদের অভিযোগ, এই উত্তরকন্যা অভিযানে বিজেপির তরফ থেকে হিংসা ছড়ানো, অশান্তি সৃষ্টি, সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশকে নিগ্রহ করার মতো বিভিন্ন অসন্তোষমূলক কাজ করা হয়েছে। এই নিয়ে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি থানায় মামলা রুজু করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সোমবারের উত্তরকন্যা অভিযানে ঘটতে থাকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যা নিয়ে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলে বাধা দেওয়ার জন্য আগের থেকেই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, দেওয়া হয় ব্যারিকেড। কিন্তু বিজেপি এসব কিছু উপেক্ষা করে মিছিল এগিয়ে যেতেই পুলিশের তরফ থেকে শুরু হয় লাঠিচার্জ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল, ছোঁড়া হয় জলকামান। এমনকি, পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার খবরও মিলেছে।

এই অভিযানে মৃত্যু হয় এক বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের। বিজেপি পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয় যে, পুলিশের গুলিতেই সেই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে পুলিশ জানায় যে শটগানে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির আর পুলিশ শটগান ব্যবহার করে না। তারা এও জানায় যে বিজেপির মিছিলে নাকি সশস্ত্র বহিরাগত লোকও ছিল। তারাই গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। এদিনের অভিযানে, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাও ছোঁড়া হয়। তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল উত্তরবঙ্গে ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকে পদ্ম শিবির। কিন্তু এদিনও বনধে বাধার সৃষ্টি করে তৃণমূল। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, অবশেষে হাতাহাতি। এরপর এই নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হলে ২০ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর এলাকা ছেড়ে চলে যান বিজেপি যুবমোর্চা কর্মীরা।

এই ঘটনার পর আজ একাধিক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করে শিলিগুড়ির পুলিশ। এই নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান যে “আমাদেরই গাড়ি ভাঙচুর চলছে, আবার আমাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। এ ঘটনা নতুন কিছু নয়।” ২০২১-এর বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই উদ্বেগ জন্মাচ্ছে রাজ্য সরকারের মধ্যে। পায়ের তলার মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, এই আশঙ্কায় যেনতেন প্রকারে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে কোনও কসুর রাখছে না মমতা সরকার।

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator