খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
গত কয়েকদিন ধরেই চলছিল জল্পনা। এবার সব জল্পনার ইতি। বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। গত সপ্তাহেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কৃত করেছে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিই শাহ্’র সভাতেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন বৈশালী। এমনকি বিধানসভা ভোটে বালি থেকেই প্রার্থী হতে পারেন তিনি, এমনটাই জানা গিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই শাসকদলে ফাটল ধরেছে। একের পর এক নেতা-বিধায়ক ‘বেসুরো’ মন্তব্য করেছে দলের বিরুদ্ধে। অনেক নেতা-মন্ত্রী দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সকলেরই অভিযোগ দলে থাকলেও তাদের নিজেদের মতো করে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বৈশালী ডালমিয়াও একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, তাঁকে গত ২২শে জানুয়ারি দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।
বৈশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলের নানান নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি। গত সপ্তাহেও এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ আনেন তিনি। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর একেবারেই ভেঙে না গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে তিনি মানুষের জন্য কাজ করতেই রাজনীতিতে এসেছেন। রাজনীতিতে থেকেই তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। এও বলেন যে তৃণমূল নাকি অন্য দল থেকে আসা লোকজনদের বেশি গুরুত্ব দেয়। সুর চড়িয়ে বৈশালী বলেন নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ভোটাররাও দলের পাশ থেকে সরে যাবেন। তখনই জল্পনা তৈরি হয় যে বৈশালী হয়ত বিজেপিতে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচনে বহিরাগতকে প্রার্থী যাতে না করা হয়, এই কারণে পোস্টার পড়েছিল বালিতে। বৈশালী বহিষ্কৃত হওয়ার পর বালিতে উৎসবের ধুম পড়ে যায়। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে সকলকে মিষ্টিমুখও করায় বলে খবর মিলেছিল। যুব তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক কৈলাস মিশ্র বৈশালীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন যে ক্ষমতা থাকলে তিনি যেন বিজেপির হয়ে বালিতে দাঁড়ান। আগে তিনি যত ভোটে জিতেছেন, তার চেয়েও বেশি ভোটে নাকি তাঁকে হারাবেন, আর তা না হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান। সেই কথাই হয়ত এখন সত্যি হতে চলেছে। বৈশালী সত্যিই গেরুয়া শিবির থেকে বালিতে প্রার্থী হন কী না, এখন সেটাই দেখার।