কিছু বোঝার আগেই নিমেষে হিমবাহের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেল সর্বস্ব। জলের তোড়ে ধ্বংসলীলা চতুর্দিক জুড়ে। ফিরল ৮ বছর আগের ভয়াবহ স্মৃতি। আচমকা তুষারধসে বিপর্যয় উত্তরাখণ্ডে। জোশীমঠে নন্দাদেবীর হিমবাহ ফাটা জলের তোড়ে ধস। নিঁখোজ ১৫০-এরও বেশি মানুষ। অলকানন্দা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০ জনের শবদেহ। NDRF-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধার কাজে ITBP জওয়ানরাও। উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর জওয়ানেরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত (CM Trivendra Singh Rawat)। আরও ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। গুরুতর জখমদেরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা।
শনিবার রাতেই জারি করা হয়েছিল সতর্কবার্তা। ৪,৫,৬ ফেব্রুয়ারি, তিন দিন ধরে ওই এলাকায় চলছিল বৃষ্টিপাত, সঙ্গে তুষারপাত। তারপরই গতকাল রাত ১০ টা ৫৫ মিনিটে ভাঙে জোশীমঠে নন্দাদেবীর হিমবাহ। রবিবার সকালে সেই ধস আরও ভয়াবহ আকার নেয়।
হিমবাহ ভেঙে পড়ার পর প্রবল তোড়ে জল নেমে আসতে শুরু করে। চামোলি জেলার তপোবন এলাকার রানি গ্রামে ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপর হিমবাহ ভেঙে পড়ার ফলে জলে ভেসে গিয়েছে আশেপাশের বাড়ি সহ গোটা এলাকা।জলের দাপটে রেইনি গ্রাম এলাকায় হাউড্রো পাওয়ার প্রোজেক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বহু শ্রমিক নিখোঁজ।Look at the difficult rescue operation. Looking for survivors in tunnels.
— kamaljit sandhu (@kamaljitsandhu) February 7, 2021
Video courtesy@ ITBP #Uttarakhand_Disaster pic.twitter.com/5asTCfexXR
PM @narendramodi has approved an ex-gratia of Rs. 2 lakh each from PMNRF for the next of kin of those who have lost their lives due to the tragic avalanche caused by a Glacier breach in Chamoli, Uttrakhand. Rs. 50,000 would be given to those seriously injured.
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2021
তবে শুধু দুঃখের খবরই নয়, ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রজ্জ্বলিত আশার দীপ। হিমবাহের স্রোতে টানেলের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ১৬ জন কর্মীই। একেই বলে মিরাক্যাল! এমন ম্যাজিকের আশাতেই বুক বেঁধে আরও নিখোঁজদের পরিবার।
এখন নতুন করে দুর্যোগের সম্ভাবনা না থাকলেও সতর্ক প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সাহায্যে ৬০০জন সেনাবাহিনীর কর্মীকে পাঠানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছে দুটি মেডিক্যাল দল ও একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স। হৃষিকেশ অবধি অলকানন্দার দুপাশ থেকে মানুষদের সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অলকানন্দা গঙ্গায় মেশায় উত্তর প্রদেশ, বিহার প্রশাসনকেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

