খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য টোটোচালক কার্ত্তিক দে সরকার। মাসখানেক আগে তিনিই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সেই কার্ত্তিকবাবুর ব্যয়বহুল চিকিৎসায় কাজে এল রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swastha Sathi Card)। বেসরকারি হাসপাতাল থেকে হার্ট অপারেশন করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন টোটো চালক। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানালেন কার্ত্তিকবাবু ও তাঁর পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)-এর স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থসাথীর সুবিধা যেমন অনেকে পেয়েছেন, সেই কার্ড থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে প্রত্যাখ্যান হওয়ার অভিযোগও বহু। তবে ময়নাগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র টোটো চালক কার্ত্তিক দে সরকারকে তার মুখোমুখি হতে হয়নি। এই কার্ডের জন্য ফিরে পেলেন নতুন জীবন।
গত মাসে হৃদরোগে আক্রাক্ত হন ময়নাগুড়ি ব্লকের টেকাটুলি এলাকার বাসিন্দা কার্ত্তিকবাবু। এই অবস্থায় তিনি শিলিগুড়ির এক চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি জানান, অবিলম্বে হার্ট অপারেশন করতে হবে তাঁর। কিন্তু তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে ব্যাপক সমস্যার পড়ে পরিবার। নিজেদের আর্থিক অসঙ্গতির কথা চিকিৎসককে জানালে তিনি বর্ধমানের এক ডাক্তারবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। সেই চিকিৎসক জানান, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে নিখরচাতেই এই চিকিৎসা সম্ভব। এর পর কার্ত্তিকবাবুকে নিয়ে পরিবার ছুটে যায় বর্ধমানে। সেখানকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কার্ত্তিকবাবুর হার্টের চার জায়গায় ব্লক ছিল। কঠিন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ব্লকেজ ঠিক করেন চিকিৎসকেরা। এর জন্য সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে বিল হয় লক্ষাধিক টাকা। কার্ত্তিক বাবুর কাছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকায় গোটা চিকিৎসাই বিনামূল্যে করানোর সুযোগ পান তিনি।
বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়ে ফিরে কার্ত্তিক বাবুর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলাম। স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড না থাকলে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব হত না। কার্ত্তিকবাবুর স্ত্রী দ্বিতীয়া দে সরকারের কথায়, “স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডের জন্য স্বামী নতুন জীবন ফিরে পেলেন।”