খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বিভাস দাস, বেলাকোবা : প্রায় প্রত্যহই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। পেট্রোল এর পাশাপাশি সেঞ্চুরি করেছে ডিজেল। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তো বটেই পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়ায় দাম বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুলির। আর যার জেরেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদেরকে। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলো সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্র সরকারকে। কিন্তু তাও দাম কমছে কই?
এদিকে ডিজেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে দাম বাড়িয়েছে বেলাকোবা - জলপাইগুড়ি রুটের যাত্রী পরিবহন বাসগুলো । ডিজেলের দাম বাড়ায় আগে ২০ টাকা করা হয়েছে পরবর্তীতে ফের দাম বাড়ায় এখন তা ২৫ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আগে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যা ভাড়া ছিল তার থেকে ৫ - ৭ টাকা হলেও কিছুটা কম ছিল ছাত্র দের ভাড়া। কিন্তু এখন তা নেওয়া হয় না। আর যার জেরেই সমস্যায় পরতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। পড়ুয়াদের অভিযোগ প্রায় মাঝে মধ্যেই পরীক্ষার কাগজ জমা করা নিতে যাওয়া, প্রজেক্ট জমা দিতে বা অন্যান কাজে কলেজে যেতে হয়। কিন্তু সেই সময় তাদের কাছ থেকে কোনো স্টুডেন্ট ভাড়া নেওয়া হয় না।
পড়ুয়ারা আরও জানান সামন্য বাসে যাতায়াতে ৫০ টাকা চলে যায়। ওখানে গিয়ে টোটো ভাড়া কিংবা টিফিন খেতে গেলে তো চোক বন্ধ করে প্রায় ১০০ টাকা চলে যায়। এই নিয়ে জলপাইগুড়ি আনন্দ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া দিপাঞ্জন রায় জানান এইভাবে যাতায়াতে আমাদের পক্ষে আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। আর কিছু দিন পর থেকে কলেজ চালু হলে এই ভাবে যাতায়াতে প্রবল সমস্যায় পরতে হবে আমাদের । আমি চাই ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে বাসপরিবহনে স্টুডেন্ট ভাড়া চালু করা হোক। এ বিষয়ে আরেকজন ছাত্রী রিতা মন্ডল তিনি বলেন যাতাযাত এই আমাদের প্রায় ১০০ টাকা ভাড়া চলে যায়। মাঝেমধ্যেই যার জন্য আমাদেরকে আসাম মোর বাইপাস হয়ে যেতে হয়।
পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যদি এবিষয়ে বাস মালিক সংগঠন ও বেলাকোবা জল্পাইগুরি বাস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমাদের এই দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো। এর সাথে তারা জানায় নির্দিষ্ট সময়ের কলেজে যাওয়ার জন্য বেলাকোবা - জলপাইগুড়ি রুটে কম মূল্যে সরকারি বাস চালানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাবো।
এমনিতেই করোনা! দিনে ঠিকমত নেই রোজগারও। এভাবে ছেলেমেয়েদের কলেজ - স্কুলে পাঠাতে পিছনে যদি দিনে ১০০ টাকা করে খরচ পরে তাহলো কিভাবে চলবো আমরা, বক্তব্য অভিভাবকদের। আর কিছুদিন পরে কলেজ আগের মতো চালু হবে। তখন কি পরিস্থিতি হবে? সংসার খরচ চালাবো নাকি ছেলেমেয়েদের পড়াতে পাঠাবো! এখন এই প্রশ্নটাই যেন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে নিতাই রায় নামে এক ছাত্রের বাবার। যদিও অভিভাবকদের বক্তব্য পরিষ্কার যদি ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে বাস পরিবহনে ভাড়া না কামানো হয় তাহলে পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশেই দাঁড়াবে অভিভাবক মহল।
যদিও বাস কন্টেন্টার দের দাবী এই সময়ে স্টুডেন্ট ভাড়া নেওয়া খুব সমস্যা। এবিষয়ে জলপাইগুড়ি - বেলাকোবা বাস ইউনিয়নের সেক্রেটারি লাবুল গুহকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে উনি ফোন ধরে নি।