খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জল্পনার অবসান। ফেসবুকের (Facebook) নতুন নাম সামনে এল। বৃহস্পতিবারই ফেসবুকের অভিভাবক সংস্থার নাম বদলের ঘোষণা করেছেন মার্ক জুকারবার্গ।এতদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের অভিভাবক সংস্থা ছিল ফেসবুক। জানা যাচ্ছে মার্ক জুকেরবার্গের (Mark Zukerberg) কোম্পানির নতুন নাম হচ্ছে ‘মেটা’ (Meta)। যে খবর ফেসবুকে শেয়ার করেছেন মার্ক নিজেই। কেন এই নামবদল সে সম্পর্কেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে নতুন পথচলার জন্য যে পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন তিনি। আর কেন মেটা নামটি বেছে নেওয়া সেই সম্পর্কে জুকেরবার্গ লিখেছেন, ‘ক্লাসিকস পড়তে বরাবরই ভালোবাসি। গ্রিক শব্দ ‘বিয়ন্ড’ (অনন্ত) থেকে এসেছে মেটা শব্দটি। ব্যক্তিগতভাবে যে শব্দ বেছে নেওয়ার কারণ আরও অনেক কিছু তৈরি করা বাকি। আমাদেরও পথচলার অনেক নতুন পথ বাকি, সেই ধারণা থেকেই এই নামকরণ।’
Announcing @Meta — the Facebook company’s new name. Meta is helping to build the metaverse, a place where we’ll play and connect in 3D. Welcome to the next chapter of social connection. pic.twitter.com/ywSJPLsCoD
— Meta (@Meta) October 28, 2021
বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ, বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ব্রান্ডিং করতে চেয়েছিলেন জুকারবার্গ। যেখানে facebook শুধুমাত্র আর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকবে না। এবার সেই রাস্তায় হাঁটতেই ফেসবুকের নাম পরিবর্তন করলেন জুকারবার্গ। জানা গিয়েছে, এখন সংস্থা এমন একটি মেটাভার্স তৈরি করতে চলেছে, যেটি একটা ভার্চুয়াল পৃথিবীর মতো হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফেসবুক (Facebook) মেটাভার্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া হবে অনেক বেশি উপভোগ্য। গেমিং বা আলোচনা থেকে অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা অন্য মাত্রায় পৌঁছবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মেটাভার্সই ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ। মেটাভার্সের যুগে ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগত ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠবে। বর্তমানে বিশ্বে ২.৯ বিলিয়ন মাসিক গ্রাহক রয়েছে ফেসবুকের। তবে নাম বদলের পরে ফেসবুকের চারিত্রিক কোনও পরিবর্তন হবে কিনা তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো সয়নি সংস্থার তরফে।
টুইটার ফেসবুকের নাম পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “BIG NEWS lol jk still Twitter”। শুধু টুইটার নয় নেটিজেনরাও এই ‘মেটা’ নাম নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হ্যামবার্গার চেইন সংস্থা উইন্ডেস টুইটে লিখেছে, “Changing name to meat” । প্রসঙ্গতই তারা মাংসের ব্যাপারি, তাই Meta নামের অক্ষর রদবদলের মাধ্যমেই অনুরাগীদের Meat আস্বাদনের ‘বিজ্ঞাপন’ করেছেন এভাবেই।
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র নাম বদলই নয়। জুকারবার্গের সংস্থায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের বিষয়েও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পথচলা শুরু করেছিল ফেসবুক। তারপর থেকে একে একে ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার, অকুলাস, হোয়াটসঅ্যাপ সবই এই মুহূর্তে ছিল মাদার কোম্পানি ফেসবুকের অধীনস্থ।
ফেসবুক তার নামে এতটাই জনপ্রিয় যে ইতিমধ্যে অনেকে একে এফবি (সংক্ষিপ্ত নাম-FB) নামেও ডাকে। কিন্তু ‘মেটা’ নামে ভাললাগার স্বাদ মেটাচ্ছে না বলেই দাবি সোশাল মিডিয়ার। অনেকের বক্তব্য, “কীভাবে একজনকে বলব যে আমি এখন মেটাতে আছি। ড্রাগস এর মতো শোনাচ্ছে।” তবে এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, ফেসবুকের নাম কিন্তু ফেসবুকই থাকছে। অফিসিয়াল যে অভিভাবক সংস্থা ছিল সেটির নাম পরিবর্তন হয়ে মেটা হচ্ছে। সোশাল মিডিয়াটির নাম বদলাচ্ছে না৷