খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বিভাস দাস, বেলাকোবা : জনকল্যাণমূলক পল্লিমঙ্গল সমিতির জমি কিভাবে ব্যাক্তিগত মালিকানায় চলে গেল তা নিয়ে আগেই সরব হয়েছিল এলাকাবাসী। জমির জবরদখল রুখতে এই বিষয়ে স্থানীয়বাসিন্দারা দফায় দফায় জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, বিধায়ক, রাজগঞ্জের ভূমি রাজস্ব আধিকারিককে ডেপুটেশন দিয়েছে কিন্তু এখন পযর্ন্ত এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি বলে দাবী স্থানীয়বাসিন্দাদের। তাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের জমি বিবাদের জেরে বেলাকোবার স্টেশন কলোনিতে বিক্ষোভ দেখিয়ে আন্দোলন করেন স্থানীয়বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি বেলাকোবার স্টেশন কলনীর দক্ষিণ প্রান্তে গত ২৫ বছর ধরে পল্লিমঙ্গল সমিতির নামে একটি ফাকা জমি পরে আছ, এলাকার বাচ্চারা সেখানে খেলাধুলা করত, এলাকার সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানও এখানে আয়োজন করা হত কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ কামাল হাসান নামে এক ব্যাক্তি ও তার দলপল মিলে প্রধানের উপস্থিতিতে জমিতে খুটি গাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের যোগসাজেই এই ঘটনা ঘটায় কামাল হোসেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ কামাল হোসেন তার অনূকুলে এই জমিটি ১৪৪ ধারা জারি করিয়েছে। যার প্রক্ষেতেই এলাকার কোনো আন্দোলনকারি কেউ যাতে যেতে না পারে এবং তার কার্যে কোনোরূপ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। এমনকি পুলিশ এসে তাদের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। গোটা ঘটনায় কার্যত ক্ষোভে ফুসছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগকারী সুরেশ রায়, গৌতম অধিকারিক সহ এলাকাবাসীদের বক্তব্য " গত বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে শুনে আসছি এটা পল্লিমঙ্গল সমিতির নামে জমি কিন্তু কি করে হঠাৎ কামাল হাসান এর মালিক হয়ে গেল?" পাশাপাশি ওই জমিটি একটি মায়ের মন্দির ছিল সেটিও ভেঙে চুরমার করে দেয় বলে অভিযোগ করেন মাম্পি পাল, জলি রায়, টুলি হাজরা সহ একাধিক মহিলা। তাদের দাবী এলাকায় কোনো সরকারি উন্নয়নের জন্য বা বাস স্ট্যান্ড কিংবা অটো স্যান্ড, স্কুল বা পার্ক এই সবের ক্ষেত্রে জমিকে ব্যবহার করা হোক তাতে কোনো রূপ আপত্তি নেই তাদের। এলাকার বাচ্চারাও এখন আর ওই জমিতে খেলতে যায় না।
যদিও গোটা ঘটনায় যার বিরুদ্ধে স্থানীয়বাসিন্দারা আঙুল তুলেছেন তিনি অবশ্য পাত্তা দিতে নারাজ। কামাল হোসেনের পরিস্কার বক্তব্য আমাদের কাছে আইন মতাবেক কাগজপত্র আছে, আমরা আইন মতাবেক চলছি এবং সেই হিসেবেই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, কারা কি করছে না করছে সেটা তাদের ব্যাপার, এরা পল্লিমঙ্গলের কেউ নয়, এরা কি স্বার্থে করছে সেটা আমাদের জানা নেই। এবিষয়ে রাজগঞ্জ ভূমি রাজস্ব আধিকারিক শুভ্রত মিত্র জানান জেলাশাসকের কাছে এই বিষয় সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পত্র ডায়ের হয় সেই অভিযোগ পত্র আমার কাছে জেলাশাসক পাঠালে তার ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে সেই রিপোর্ট তিনি মঙ্গলবার তার বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠাবেন।