খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
অনুপম রায়, বেলাকোবা : ছোট থেকে নেশা খেলার মাঠে দৌড়োনো । তার সাথে স্বপ্ন দেশের হয়ে জাতীয় স্তরে তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় নামবে। সেই দৌলাতেই আজ নিজে খেলার সাথে সাথে অনান্য বাচ্চাদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সে।
নাম অনুরাধা রায়, বয়স ২০। বাড়ি রাজগঞ্জের শিকারপুর অঞ্চলের শিকারপুর চা বাগান এলাকায়। মা, বাবা ও তিন বোন মিলে তার পরিবার। বাড়ির তিনিই প্রথম কন্যা বা বড়ো মেয়ে। বতর্মানে জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি জানান বেলাকোবা গার্লস হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া চলাকালীন স্কুলে তাইকোন্ডো শেখাতে আসত, সেই থেকেই তার তাইকোন্ডোতে পথ চলা শুরু। বিশ্বজিৎ রায় নামে একজনের কাছে তিনি প্রশিক্ষক নেন। এরপর আস্তে তাইকোন্ডো শিখতে থাকে। বতর্মানে তিনি স্টেট প্লেয়ার এবং সেই সাথে ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার। তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় খেলে পেয়েছেন সেকেন্ড ডান ব্যাল্ক বেল্ট।
এরপর থেকেই নিজের ভাবনায় গত ২০১৭ সাল থেকে তিনি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে। করোনা আবহের সময় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ থাকলে এখন পুনরায় চালু করেছে। বতর্মানে তার ছাত্র সংখ্যা একশতর কাছাকাছি। সপ্তাহে দু দিন রবিবার ও মঙ্গলবার করে বেলাকোবা গার্লস স্কুল মাঠে শেখাচ্ছেন। বেলাকোবাতো রয়েইছে আশেপাশে রাজগঞ্জ, আমবাড়ি, রংধামালি, দশদরগা থেকে বাচ্চারা প্রশিক্ষণ নিতে আসে। অনুরাধা বলেন, তাইকোয়ান্ডো আজ শুধুমাত্র অলিম্পিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা তথা কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট হিসেবেই জনপ্রিয়তা লাভ করেনি, পাশাপাশি বিশ্বের ২১০টি দেশে সাংস্কৃতিক শিল্পের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জেও এই খেলাটি যথেষ্ট জনপ্রিয়, সেই সাথে বর্তমান সমাজে বিশেষত নারীদের আত্মরক্ষার জন্য সেল্ফ ডিফেন্স শিখে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন এবং সেই সাথে তাইকোন্ডো শরীরের ফিটনেস রাখাতে সাহায্য করে। এই বিষয়ে সমাজকর্মী তথা সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য অশোক দাস, কৃষানু রুদ্র বলেন, এই সময় এই তাইকোন্ডো প্রত্যেক মেয়েকে শিখে রাখা প্রয়োজন, বেলাকোবা ফুটবল, ক্রিকেট, ক্যারাটে সব কিছুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে অনুরাধার এই তাইকোন্ডোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বেলাকোবায় এক যোগমাত্রা পেল।