খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
শিলিগুড়ির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ নগরের ঘটনায় চাঞ্চল্য! একই ঘরের সিলিং থেকে দুই বান্ধবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে তাদের ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব ছিল দু'জনের। স্কুল, খেলাধুলো সবই একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এরই মধ্যে এক বান্ধবীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। চলতি মাসেই তাঁর বিয়ে। তারই প্রস্তুতি চলছিল বাড়িতে। সোমবার বিকেলে বাড়ির লোকেরা কেউ ছিলেন না। সেই সময় একই ওড়নায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় দুই বান্ধবী।
বিয়ের পর পরস্পরের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ভাবনা থেকেই ভেঙে পড়ে দু'জনে। সোমবার সন্ধ্যেয় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দুই বান্ধবীর মৃতদেহ। দুই বান্ধবীর মধ্যে একজনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় দু' জনের দেহ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সুইসাইড নোটও। ঘটনা ঘিরে প্রবল শোকের ছায়া দেখা গিয়েছে এলাকা জুড়ে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নীলিমা রায় জানিয়েছেন, 'ওরা দু'জন ছিল প্রিয় বান্ধবী। পরস্পরকে ছাড়া থাকতে পারতো না। এক জনের বিয়ে ঠিক হওয়াতেই এই ঘটনা। ?পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, হতাশা থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। সোমবার রাতে দু’জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ভক্তিনগর থানার পুলিশ৷ আর সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের সব কাজ একসঙ্গে করবেন। আমাদের হাত কেউ খুলে দেবেন না। আমাদের আলাদা করে দেবেন না। আমাদের একসঙ্গে নিয়ে যাবেন। একসঙ্গে রাখবেন। আমাদের ক্ষমা করবেন।’
এদিকে এ দিন রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মর্গে দেহ দু'টি পাঠিয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজনের ঠাকুরদা জানান, আগামী ৭ বৈশাখ নাতনির বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সবরকম আয়োজনই হয়ে আসছিল। এরই মাঝে এমন ঘটনা। বিয়েতে কোনওরকম আপত্তির কথা জানায়নিও। তবু কেন হল, বুঝতে পারছি না। সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, গভীর বন্ধুত্ব কী বদলে গিয়েছিল ভালোবাসায়? তবে অন্য বন্ধুরা মনে করছেন, ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে, তোড়েঙ্গে দম মাগার, তেরা সাথ না ছোড়েঙ্গে।’ এই বার্তাই রেখে গেল তাদের দুই বান্ধবী।