‘পুতুল’কে মা বানিয়ে হল শেষকৃত্য শিলিগুড়িতে! কারণ শুনলে আসবে চোখে জল

Monday, May 02, 2022
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
পুতুল বানিয়ে মায়ের শেষকৃত্য করছে ছেলেরা, ঘটনাটি ঠিক শুনতে কিরকম তাই না, তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ শিলিগুড়ি সংলগ্ন কালারাম গ্রামে পনেরো বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মা। খোঁজ না মেলায় অবশেষে মায়ের পুতুল বানিয়ে দাহ করলেন তিন ছেলে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন জয়লাল চৌধুরী । তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী চৌধুরী ও তিন ছেলে বিশ্বনাথ চৌধুরী, বিষ্ণু চৌধুরী ও সুজিত চৌধুরী । ২৭ বছর আগে মৃত্যু হয় জয়লাল চৌধুরীর । তারপরই মানসিক ভারসাম্য হারান মা সাবিত্রী চৌধুরী । মাঝেমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন তিনি । বেশ কয়েকবার চলে গিয়েছিলেন । অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া যেত তাঁকে । দু'বার তো এক, দেড় বছর পর মিলেছিল সাবিত্রীদেবীকে ।এভাবেই চলছিল ।
কিন্তু পনেরো বছর আগে আচমকা আবার নিখোঁজ হয়ে যান ৭০ বছরের সাবিত্রী চৌধুরী । পরিবারের তরফে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি ছেলেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন । কিন্তু পাওয়া যায়নি । এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ পনেরোটা বছর । অবশেষে মায়ের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেন ছেলেরা । সেজন্য রীতি মেনে মায়ের আত্মার শান্তির জন্য পুতুল বানিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন তিন ছেলে । পরিবার এবং গ্রামের পক্ষ থেকে তাঁর মাটির তৈরি কুশপুতুল বানিয়ে কালারাম বিষ্ণুপুর শ্মশানঘাটে শেষকৃত্য করা হয় । স্বাভাবিক মৃত্যু হলে যেমন হয়, তেমন নিয়মেই হয়েছে । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত । কাঠের চিতা বানিয়ে পোড়ানো হয় ওই কুশপুতুলটিকে । ছেলে বিশ্বনাথ চৌধুরী বলেন, "পনেরো বছর আগে মা নিখোঁজ হয়েছিলেন। তখন তিনি ৭০ বছরের ছিলেন । পনেরো বছর পার হয়ে গিয়েছে । সেজন্য মায়ের আত্মার শান্তির জন্য পুতুল বানিয়ে সৎকার করলাম ।" আরেক ছেলে বিষ্ণু চৌধুরী বলেন, "মাকে তো পেলাম না, তাই পুরোহিত বলেন শেষকৃত্য না করলে মায়ের আত্মা শান্তি পাবে না । সেজন্যই শেষকৃত্য করলাম ।" গ্রামবাসী বীর বাহাদুর সাহানি বলেন, "গ্রামে আগে এরকম হয়নি ৷ এটাই প্রথম । তাঁর বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনা সেরকম নেই । তাই আত্মার শান্তির জন্য ছেলেরা পুতুল বানিয়ে সৎকার করল ।"

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator