খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
সদ্যোজাতদের নিয়ে হাসপাতালের উঠোনে দীর্ঘক্ষণ সময় দাড়িয়ে থেকেও মিলছে না সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স। এভাবেই রবিবার জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি যেতে অনেককেই বিপাকে পড়তে হয়েছে। তাদের অভিযোগ ফোন করেও ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স পরিসেবা মিলছে না। ফলে অনেকেই বাধ্য নিয়ে নিজস্ব গাড়ি বুকিং করেই বাড়ি যেতে হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদারকে বলা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি, যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।
দক্ষিণ ঝা আলতা গ্রামের বাসিন্দা লিপিকা রায়, গত ২২ তারিখ গর্ভবতী অবস্থায় জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ২৩ তারিখ তার পুত্র সন্তান হয়। এরপর হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর রবিবার তার বাড়ি যাওয়ার কথা। তাকে নিতে আসেন তার স্বামী দিপক অধিকারী। বেলা একটা নাগাদ তার ছুটি হয়। কিন্তু তার অভিযোগ ছুটির পর ১০২ নম্বরে ফোন করেও মেলেনি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। ফলে তখন থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত প্রায় ছয় ঘন্টা হাতে সদ্যোজাত শিশুকেই হাসপাতালের বাড়ান্দায় দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। এতক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পরও কেন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা পেলেন না এই নিয়ে তিনি ক্ষোভও দেখিয়েছেন।
লিপিকা রায়ের পাশাপাশি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা না পাওয়ায় বিপাকে পরেছেন বানারহাটের বাসিন্দা বিশ্বজিত রায়ও। তিনি জানান, গত বুধবার তার স্ত্রী হাসপাতালে গর্ভবতী অবস্থায় ভর্তি হন, বৃহস্পতিবার সন্তান হয়, এরপর আজকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু তার অভিযোগ ছুটি দেওয়ার পরেও অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ ক্ষোভ দেখিয়ে বলেন, ১০২ নম্বরে ফোন করেছিলাম, সেখান থেকে হাসপাতালের ভিতরে যেখানে অ্যাম্বুলেন্স দাড়িয়ে রয়েছে সেখানে যোগাযোগ করতে বলে। আমি সেই মতো সেখানে যোগাযোগ করি কিন্তু যখনই শুনে আমি ধুপগুড়ি যাব তখনই ওখান থেকে আমাকে না বলে দেয়। তারা জানায় এখন গাড়ি নেই। আমি ফের তাদেরকে প্রশ্ন করি তাহলে গাড়ি কখন পাব? উত্তরে তারা জানায় জানি না। অথচ আমি দেখছি আমার পরে ফোন করেও লোকালের অনেক অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছেন। এইরকম ঘটনা সরকারি হাসপাতালে কাম্য নয় বলেও তিনি জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বিশ্বজিৎ বাবু ও স্ত্রীসহ সন্তানকে পৌছে দেয়। এই ঘটনা যে মোটেই কাম্য নয় তা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য অঙ্কুর দাস বক্তব্যে পরিস্কার। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা যে বিপদগ্রস্থ তা আমরা বরাবর অভিযোগ করি আসছি। আজ সেই অভিযোগের সত্যতা ফের প্রমাণিত হলো। সদ্যজাত শিশুকে কোলে নিয়ে বাবা মায়েরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে রয়েছে, ১০২ এ ডায়াল করেও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাচ্ছে না। তাহলে ভাবুন কি অবস্থা? আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে খবর পাওয়া মাত্র আমাদের অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা নিয়ে হাজির হই হাসপাতালে এবং ওনাদের সুস্থ মতো সেই অ্যাম্বুলেন্সে বাড়িতে পৌছে দিই। তিনি বলেন আজকে সদ্যজাত শিশুদের সাথে এই ধরনের ঘটনা মোটেই কাম্য না। খুব নিন্দনীয় এবং লজ্জাজনক। এদিন একাধিক শিশু এবং তার মাও পরিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ জেলা হাসপাতালের মাতৃ মা এর বাইরে দাঁড়িয়ে। এই শীতের সন্ধ্যায় চরম সমস্যায় শিশু, মা ও আত্মীয় পরিজনেরা। তবে এই বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদারকে বলা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি, যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।