খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
ছবির মতো সুন্দর এলাকা সিকিম আর রাত পোহাতেই সকাল থেকে অন্য চেহারা। চারদিকে যেন একলহমায় বদলে গিয়েছে। পর্যটকদের পছন্দের ছবির মত দেখতে এলাকা এখন শুধুই কাদামাটির স্তূপ। জলের ঢেউয়ে ভেসেই চলেছে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমনকি জাতীয় সড়ক পর্যন্ত ভেঙে খণ্ড খণ্ড। উত্তর সিকিমে বুধবার ভোররাতে হয় মেঘ ভাঙা বৃষ্টি। জলের চাপে ভেঙে গিয়েছে প্রাকৃতিক হ্রদ লোনক।
আর ঠিক এমতাবস্থায় প্রায় ২০০০ বেশি পর্যটক সিকিমে আটকে রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে ভারী বৃষ্টি জেরে বিপর্যস্ত সিকিম অন্যদিকে দামোদর থেকে জল ছাড়ার জেরে পুজোর আগে বিপর্যয় নেমে এসেছে বাংলায়। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। সরকারের তরফে আপদকালীন হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। বিপদ এড়াতে এবং আগামী কয়েক দিন সতর্ক থাকতে বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্য দফতরের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারদের নজরদারীর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে মন্ত্রী থেকে শুরু করে আইএএস অফিসারদেরও ঘটনাস্থলে পরির্দশনের নির্দেশ দেন। তবে জলপাইগুড়ি জেলা নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছে তিনি। কারন পাহাড় থেকে তিস্তা জলপাঈগুড়ি জেলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙ – কালিম্পং যাওয়ার যে রাস্তা ধসে গিয়েছে জল কমলে দ্রুত তার বাধ মেরামতের কাজ চলবে। এদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বতর্মানে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে জানান। বিধস্ত সিকিমের পাশে দাড়িয়েছে রাজ্য সরকার।
তারই ঠিক অন্যদিকে আবহাওয়ার খবরে চিন্তার ভাঁজ। আবারও অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা উত্তরবঙ্গে। আজ বুধবার দার্জিলিঙ, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার সহ গোটা উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আগামীকাল তিন জেলায় অর্থাৎ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে একই লাল সর্তকতা রয়েছে। তবে আগামীকাল এই তিন জেলা বাদে বাকি জেলা গুলোতে কমলা সতর্কতা রয়েছে। এর মানে অতি ভারী বৃষ্টি না হলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। এরপর যদি শুক্রবারের কথা লক্ষ্য করা যায় সেক্ষেত্রে সেদিন থেকে বৃষ্টিপাত কমার সম্ভবনা রয়েছে। সেদিন শুধু কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতে হালকা বৃষ্টির কথা রয়েছে। শনিবার থেকে গোটা উত্তরবঙ্গেও নীল আকাশ দেখতে পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
