খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
অনুপম রায়, রাজগঞ্জ, ৭ই মার্চ: বিয়ের আনন্দে ভরা দিনে, অনেকেরই মুখ ঝলমলে, কিন্তু কিছু অসহায় পরিবারের জন্য, এই আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, বিশেষ করে যখন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আর্থিক অনটন থাকে। রাজগঞ্জ ব্লকের পানিকৌড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুটকিপারা এলাকার এক এক অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন রাজগঞ্জ (Rajganj) বিডিও প্রশান্ত বর্মন (BDO Prashant Barman)। মেয়ের বাবা-মা উভয়েই অসুস্থ, সংসার চালানোর মূল মানুষটাই যখন অসুস্থ, তখন সংসার চলছিল কোনো মতে। শিকারপুর (Shikarpur) গ্রাম পঞ্চায়েতের ভান্ডিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাধন রায়ের মেয়ে সুচিত্রা রায়ের সাথে পানিকৌড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুটকি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নিত্যানন্দ রায়ের ছেলে মানব রায়ের বিয়ে ঠিক হয়। এই পরিস্থিতিতে মেয়ের বিয়ে দেওয়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল মেয়ের বাড়ির পরিবারের, তাই মেয়ের বাড়ি এবং ছেলের বাড়ির পরিবারের সদস্যরা ঠিক করেন বিয়েটা ছেলের বাড়িতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতেই হবে। বিডিও প্রশান্ত বর্মন এই অসহায় পরিবারের কথা জানতে পেরে তাদের পাশে আজ বিয়ের আগের দিন ছেলের বাড়িতে এসে মেয়ে এবং ছেলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি বিয়ের ঘর সাজানোর জিনিসপত্রের সঙ্গে কিছু আর্থিক সাহায্যও করেন তিনি। শুধু তাই নয়, আজ বিয়ের আগের দিনে আগে তথা অধিবাসের দিনে ছেলের বাড়িতে গিয়ে রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য আবেদনের ব্যাপারেও তিনি সাহায্যও করেন।
এবিষয়ে বিডিও প্রশান্ত বর্মন বলেন, আমি একটা খবর পেয়েছিলাম, খুব গরীব পরিবার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে, যেই পরিবারটির কোনো রোজগার নেই বললেই চলে, শুনলাম এই পরিবারের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে, ছেলের বাড়িতেই। স্থানীয়রা সকলে মিলে সাহায্য করে বিয়েটা দিচ্ছে, আমি ব্লক প্রশাসন আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে রূপশ্রী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যে প্রকল্প গুলি আছে সেগুলো পাইয়ে দেওয়া। জানতে পারলাম রুপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেছে সেটা আমরা লগইনে স্যাংশনও দিয়ে দিয়েছি, খুব শীগ্রই টাকা ঢুকে যাবে। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু ঘর সাজানোর জিনিস এবং যতটা পেরেছি আর্থিক সাহায্য করলাম। আমি ব্যাক্তিগতভাবে চেষ্টা করি যারা সমাজে পিছিয়ে পড়েছে তাদের সাহায্য করতে এবং এভাবে সকলের পাশে থাকতে পেরে আমাকে খুবি ভালো লাগে। কারন আমি এরকম একটা পরিবার থেকে উঠে এসেছিলাম, যে পাশে দাড়ানোর কেউ ছিল না, আমি আমার শেষ সময় প্রযন্ত চেষ্টা করব মানুষের পাশেই দাঁড়ানোর। এই অসহায় সময়ে, বিডিওর থেকে সাহায্য পেয়ে খুশি পরিবারের সদস্য থেকে স্থানীয়রা।
