খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
হোলিকা দহন 24 মার্চ, শনিবার, রাত 8:59 মিনিট থেকে 9:56 মিনিট। এবং দোলযাত্রা 25 মার্চ, রবিবার, সারাদিন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমায় হোলি উদযাপিত হয়। ২০২৪ সালে, ফাল্গুন পূর্ণিমা 24 মার্চ শনিবার রাত 9:54 মিনিটে শুরু হবে এবং 25 মার্চ রবিবার বেলা 12:29 মিনিটে শেষ হবে। উদয়া তিথি অনুসারে, 25 মার্চ রবিবার দোলযাত্রা পালিত হবে।
দোল পূর্ণিমার তারিখের বিশেষত্ব:
2024 সালের দোলযাত্রা একটি বিশেষ দিনে পালিত হবে কারণ এই দিনে একটি চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। পূর্ণিমার দিনে চন্দ্রগ্রহণ একটি বিরল ঘটনা এবং এটি ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
দোল উৎসবের হোলিকা দহন কি?
হোলিকা দহন: মন্দের উপর ভালোর বিজয়
হোলিকা দহন, যা ন্যাড়া পোড়া নামেও পরিচিত, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। হোলিকা দহন মন্দের উপর ভালোর বিজয় এবং অশুভ শক্তির পরাজয় উদযাপন করে। কাহিনী অনুসারে, হিরণ্যকশিপু নামক এক অসুর রাজা ছিলেন যিনি নিজেকে অমর মনে করতেন। তিনি তার পুত্র প্রহ্লাদকে ভিক্ষু করেছিলেন কারণ প্রহ্লাদ বিষ্ণু ভগবানের ভক্ত ছিলেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকাকে, যাকে আগুনে পুড়তে পারত না, প্রহ্লাদের সাথে আগুনে প্রবেশ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিষ্ণুর আশীর্বাদে প্রহ্লাদ বেঁচে যান এবং হোলিকা পুড়ে যান।
হোলিকা দহনের দিন, একটি কাঠের চিতা তৈরি করা হয় এবং তার উপরে হোলিকা নামক একটি কুশপুতুল বসানো হয়। এরপর চিতায় আগুন ধরানো হয় এবং "হোলি হে" বলে আনন্দ উল্লাস করা হয়। এই রীতির মাধ্যমে অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির বিজয় উদযাপন করা হয়। হোলিকা দহন কেবল একটি ধর্মীয় রীতিনীতিই নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব সকলের মিলন ও সম্প্রীতির প্রতীক। হোলিকা দহনের আগুন ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একত্রিত করে। উপসংহারে বলা যায়, হোলিকা দহন একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব যা মন্দের উপর ভালোর বিজয়, অশুভ শক্তির পরাজয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সকলের মিলন ও সম্প্রীতি উদযাপন করে।
দোল উৎসবের বার্তা কি?
এই উৎসব সকলের মিলন ও সম্প্রীতির প্রতীক। দোলের রঙে সকলেই একাকার হয়ে যায়, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, ভেদাভেদ ভুলে সকলেই আনন্দে মেতে ওঠে। হোলি ও দোলযাত্রা ভেদাভেদ ভুলে সকলের মিলন ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। এই উৎসব আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং জীবনের প্রতি আনন্দ ও উৎসাহের সাথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
হোলি বা দোল উৎসবের তাৎপর্য ও রীতিনীতি কি?
দোল যাত্রা ঐক্য, ভালোবাসা, আনন্দ, ক্ষমা, সহনশীলতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উৎসব। রাধা-কৃষ্ণের রঙের খেলার স্মরণে পালিত এই উৎসব সকলের মিলন ও সম্প্রীতির প্রতীক। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে দোল যাত্রা, শীতের নিষ্ক্রিয়তা ছেড়ে নতুন জীবনের সূচনা হয় এই ঋতুতে। হোলিকা দহনের মাধ্যমে অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির বিজয় উদযাপন করা হয়। দোলের রঙে ভেসে যায় সকলের মনোমালিন্য, এই উৎসব আমাদেরকে ক্ষমা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। দোল যাত্রা আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক, আমাদেরকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত করে রাখে। বসন্ত ঋতু প্রকৃতির নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটায়, দোল যাত্রা উৎসব আমাদেরকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। দোল যাত্রা আমাদের জীবনে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার করে, আমাদেরকে জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট!
