খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
![]() |
| ছবির সংগৃহীত |
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইসলামের নবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার একটি অস্পষ্ট অভিযোগ তুলে প্রথমে তাকে কর্মস্থল থেকে বের করে আনা হয়। এরপর উন্মত্ত জনতা তাকে মহাসড়কের পাশে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে একটি গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে পুনরায় লাঠিপেটা করা হয় এবং মৃতপ্রায় অবস্থায় তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের একটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই বর্বরতা চললেও ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বীভৎস ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তাণ্ডবের কারণে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।
এত বড় একটি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরও স্থানীয় পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করেনি। ভালুকা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহতের স্বজনদের খোঁজ করা হচ্ছে এবং তারা অভিযোগ দিলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, জনসমক্ষে এমন একটি অপরাধ ঘটার পর কেন রাষ্ট্র বা পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করছে না। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বিচারবহির্ভূতভাবে সংখ্যালঘু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে এ ধরনের মব-লিঞ্চিং বা গণপিটুনির ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। ভালুকার এই ঘটনার পেছনেও প্রকৃত কোনো অভিযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
