খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
![]() |
| প্রয়াত হলেন "অসুর" |
ঘটনার বিবরণ:
এদিন সকাল থেকেই অমলবাবুর টিনের চালের ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ কোনো আওয়াজ না পাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে। ডাকাডাকি করেও কোনো উত্তর না মেলায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। জানা গিয়েছে, পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙে অমলবাবুর নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ দাস।
পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা:
সূত্রের খবর, ব্যক্তিজীবনে একাই ছিলেন অমলবাবু। বিয়ে করেননি, একে একে বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন। তবে বার্ধক্যের একাকিত্বের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল চরম অর্থনৈতিক সংকট। জানা যায়, ঠিকমতো দু'বেলা খাবার জুটত না তাঁর, নিত্যসঙ্গী ছিল অসুস্থতা। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছিলেন তিনি।
অভিনয় জীবন ও প্রতিভা:
একসময় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও মহালয়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ তাঁকে টেনে এনেছিল অভিনয় জগতে। মহালয়ায় 'অসুর' চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সঙ্গে তাঁর পেশীবহুল চেহারা আর চোখের চাউনি এক অন্য মাত্রা যোগ করত। পর্দায় দেবীর কাছে পরাজিত হলেও বাস্তবে তিনি জয় করেছিলেন অগণিত মানুষের হৃদয়। শুধু অসুর নয়, যমরাজ ও সেনাপতির চরিত্রে এবং বেশ কিছু সিনেমাতেও কাজ করেছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি আঁকার হাতও ছিল দারুণ, হাজার হাজার বাচ্চাকে আঁকা শিখিয়েছেন একসময়।
শেষের সে দিন:
জানা গিয়েছে, মাস কয়েক আগে একটি দুর্ঘটনায় পায়ে চিড় ধরেছিল শিল্পীর। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। গত পুজোর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সাহায্যের জন্য কাতর আবেদনও জানিয়েছিলেন। তবে সেই অর্থ আর জোগাড় হয়নি। চিকিৎসার অভাবেই অকালে চলে যেতে হলো প্রতিভাবান এই অভিনেতাকে। লাইমলাইটের আড়ালে থাকা শিল্পীদের এহেন পরিণতি আবারও অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল।
