খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
শিলিগুড়ি, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬: শিলিগুড়ির গোঁসাইপাড়া ময়দানে আয়োজিত এক মেগা সাংগঠনিক বৈঠক থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) সুর বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Union Home Minister Amit Shah)। এদিন উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলার প্রায় ৬ হাজার বিজেপি কার্যকর্তার সামনে তিনি তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন। জানা গিয়েছে, এই সভা থেকেই উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ রণকৌশল স্থির করে দিয়েছেন শাহ।
উত্তরবঙ্গে ক্লিন সুইপ-এর লক্ষ্য (BJP Target in North Bengal):
এদিন সভা থেকে অমিত শাহ দাবি করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি আসনে (Total seats of North Bengal) বিজেপি জয়ী হবে। তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের বঞ্চনার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ:
ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রাখতে রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে বাধা দিচ্ছে, কিন্তু বিজেপি তা হতে দেবে না।
অনুপ্রবেশ বন্ধের প্রতিশ্রুতি (Stop Infiltration):
বাংলায় অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা বলে এদিন উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্রের খবর, শাহ গ্যারান্টি দিয়েছেন যে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং বাংলাকে সুরক্ষিত করা হবে।
কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ:
ভোটের আগে বুথ স্তরে সংগঠনের শক্তি বাড়াতে কর্মীদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন শাহ। জানা যায়, প্রতিটি বুথে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এবং তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বাজেটে উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব:
আগামী বাজেটে (Union Budget 2026) উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বড়সড় বরাদ্দ করবে বলে এদিন তিনি আশ্বাস দেন। শাহ জানান, চা বলয় থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্প— সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গ অগ্রাধিকার পাবে।
সিন্ডিকেট রাজ ও তোষণ রাজনীতি:
এদিন শাহ দাবি করেন যে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে সিন্ডিকেট রাজ ও তোষণের রাজনীতি (Appeasement Politics) চলছে। এদিন সভা থেকে তিনি বলেন, এই অরাজকতা থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ বিজেপিকে বেছে নেবে।
ব্যারাকপুর থেকে শিলিগুড়ি সফর:
উল্লেখ্য, গতকাল রাতে তিনি কলকাতায় এসে পৌঁছান। এরপর এদিন সকালে ব্যারাকপুরে একটি সভা সেরে বিকেলের দিকে শিলিগুড়িতে পৌঁছান তিনি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।
