স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, সাত দিন পরেই কুপিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

Saturday, January 24, 2026
..
🎙️
খবরটি শুনুন অডিও সংস্করণ
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি। প্রতিবেশী দেওরের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের কথা জানতে পেরে সাত দিন আগেই তাঁকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সেই স্ত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবাসরীয় সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া এলাকায়।

ঘটনার বিবরণ:

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির বাসিন্দা শ্রীকান্ত বর্মন কেরলে শ্রমিকের কাজ করতেন। দীর্ঘ তিন বছর সেখানে থাকার পর সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সোমা রায় বর্মন (৩২) প্রতিবেশী এক দেওরের সঙ্গে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এমনকি সোমা দেবী অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়েন।

সূত্রের খবর, গত রবিবার পাড়া-প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে শ্রীকান্ত নিজেই স্ত্রী সোমাকে তাঁর প্রেমিক চিরঞ্জিত রায়ের হাতে তুলে দেন। রীতিমতো মালাবদল করিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁদের বিয়েও দেন তিনি। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন অর্থাৎ শনিবার সকালে শ্রীকান্ত হঠাৎই চিরঞ্জিতের বাড়িতে চড়াও হন এবং সোমাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোমা রায়ের।

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ:

খুনের ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা না করে, হাতে রক্তমাখা অস্ত্র নিয়েই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন শ্রীকান্ত বর্মন। পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পারিবারিক টানাপোড়েন:

জানা গিয়েছে, শ্রীকান্ত ও সোমার দীর্ঘ ১৫ বছরের সংসার এবং তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, কেরলে থাকাকালীন শ্রীকান্ত যে টাকা পাঠাতেন, সেই টাকা সোমা তাঁর প্রেমিককে দিয়ে দিতেন। গত রবিবার ঘটা করে স্ত্রীকে বিদায় দিলেও ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুরুলিয়াতেও স্ত্রীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা

অন্যদিকে, পুরুলিয়ার আদ্রা থানার গগনাবাইদ গ্রামেও স্ত্রীর ওপর কুড়ুল দিয়ে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযুক্ত স্বামী মানস বাউরিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেখানেও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদ ও পরকীয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মৃতা অষ্টমী বাউরি তিন সন্তানের জননী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

×

Processing Your Link...

--

Please wait while we secure your destination.

Admin Access

Link Generator