খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
রাজ্যে নির্বাচনের আবহে ফের একবার আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন তুঙ্গে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ করলেন না এক সরকারি আমলা, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অমান্য করেছেন। আদালত তাঁকে শুক্রবারের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও, সেই সময়সীমা ইতিমদ্ধেই অতিক্রান্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় আইন অমান্য করার বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুরানো এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৮ অক্টোবর। জানা গিয়েছে, বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকা থেকে স্বপন কামিলা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছিল। এর ঠিক পরের দিনই নিউটাউনের যাত্রাগাছির খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই ব্যবসায়ীর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা চুরির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই চুরির সোনা স্বপন কামিলা কিনেছিলেন—এই সন্দেহের জেরেই তাঁকে অপহরণ করা হয় এবং সেই ঘটনায় বিডিও-র নাম জড়িয়ে পড়ে। এই মামলায় পুলিশ ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত সরকারি আমলা এখনও অধরা।
আইনি লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি
তদন্ত চলাকালীন গ্রেপ্তার এড়াতে গত বছরের ২৬ নভেম্বর বারাসত জেলা আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মন। পরবর্তীতে ২৯ নভেম্বর বিধাননগর আদালত থেকেও তিনি জামিন পান। তবে, সেই জামিনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। গত ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে তিন দিনের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই সময় অভিযুক্ত আমলা আত্মগোপন করেন বলে জানা গিয়েছে।
পরবর্তীতে বিধাননগর পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আশ্রয় নেন। এদিন প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে বিধাননগর আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় বর্তমানে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তদন্তকারীরা এখন নতুন কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই রাজগঞ্জে নতুন বিডিও নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজগঞ্জের জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডলকে বিডিও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
