খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখল দেবভূমি হিমাচল প্রদেশ। গত কয়েকদিন ধরেই টানা তুষারপাতের (Himachal Snowfall) জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন। সূত্রের খবর, হিমাচল প্রদেশের প্রায় ১২০০-এর বেশি রাস্তা বর্তমানে বরফের তুষারস্তূপে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে লাহুল-স্পিতি (Lahaul-Spiti) এবং কুল্লু উপত্যকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে সবথেকে বেশি। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তুষারপাতের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকরা (Himachal Tourism)।
মৌসম ভবন (IMD Report) সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী তুষারপাত শুরু হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় লাহুল এবং স্পিতির গোন্দলায় ২২ সেন্টিমিটার, কুকুমসেরিতে ২১ সেমি এবং কুল্লুর কোঠিতে ২০ সেমি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই কোকসর, হংসা ও কেলং সম্পূর্ণ তুষারাবৃত হয়ে রয়েছে। রাস্তায় বরফ জমে থাকায় শয়ে শয়ে পর্যটক বর্তমানে আটকে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জানা যায়, একটি সক্রিয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝার (Western Disturbance) প্রভাবে আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিমাচলে আরও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির (Heavy Rain and Snowfall) সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগেই ২৮ জানুয়ারি থেকে উঁচু এলাকাগুলোতে আবহাওয়া আরও খারাপ হতে পারে। শিমলা (Shimla), সোলান, কাংড়া এবং মান্ডিতে ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তুষার বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালানো হচ্ছে। রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিংহ জানিয়েছেন যে, গতকাল থেকেই অবরুদ্ধ রাস্তাগুলি পরিষ্কার করতে স্নো ব্লোয়ার এবং জেসিবি (JCB) মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কিন্নৌর, চম্বা এবং লাহুল-স্পিতির মতো দুর্গম জেলাগুলিতে নতুন করে তুষারপাতের সতর্কতা থাকায় চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের। আপাতত অপ্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।
