খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী (Deputy Chief Minister) পদে শপথ নিলেন সদ্য প্রয়াত এনসিপি নেতা তথা মহায়ুতি সরকারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। রাজ্যসভা সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ার (Sunetra Pawar) রাজনৈতিক মহলে ‘বহিনি’ বা বউদি নামেই পরিচিত। এদিন শনিবার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (NCP) বিধায়করা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এর ফলে মহারাষ্ট্রের জোট সরকারে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামেই সিলমোহর পড়ল।
গত বুধবার এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলের পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন এবং কে হবেন পরবর্তী উপ-মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চলছিল। তবে সূত্রের খবর, দলের অন্দরে আগে থেকেই সুনেত্রা পাওয়ারকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শনিবার বিকেলে রাজভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। মহারাষ্ট্রের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টো নাগাদ মুম্বইয়ের বিধান ভবনে এনসিপির প্রায় ৪০ জন বিধায়ক বৈঠকে বসেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে সুনেত্রা পাওয়ারকে বিধান পরিষদীয় নেত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। প্রবীণ নেতা ছগন ভুজবল তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং বাকিরা তাতে সমর্থন জানান। অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রফুল প্যাটেল-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই সুনেত্রাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
এনসিপির বর্তমান লক্ষ্য হল পাওয়ার পরিবারের শক্ত ঘাঁটি বারামতী (Baramati) কেন্দ্রটি সুরক্ষিত রাখা। অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্থান ও কাজ ছিল এই কেন্দ্রকে ঘিরেই। জানা গিয়েছে, সুনেত্রাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পর পরবর্তী ধাপে বারামতী থেকেই তাঁকে বিধায়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ দেবেন্দ্র ফড়নবশের সঙ্গেও আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নরহরি জিরওয়াল জানান যে, দাদার পর মানুষ ‘বহিনি’কেই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করছেন।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে এনসিপি বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই সুনেত্রা পাওয়ারের সক্রিয় রাজনীতিতে আসা নিয়ে জল্পনা ছিল। বর্তমানে তিনি বিধানসভার সদস্য না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে তৈরি হওয়া নেতৃত্ব সংকট কাটাতে তাঁর স্ত্রীকে সামনে রেখে সংগঠন মজবুত করাই এখন এনসিপির প্রধান কৌশল।
