রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে জামালদহের গোপালপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় লাইনের কাজ চলছিল। সেই সময়েই হঠাত লাইনের ওপর বিকল হয়ে পড়ে কাজ করার একটি অত্যাধুনিক মেশিন। রেলকর্মী কিরণ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাইনের পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের কঞ্চির আঘাতে মেশিনের তার ছিঁড়ে যাওয়াতেই এই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়।
এদিকে, দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার ফলে স্বভাবতই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে যাত্রীদের। স্টেশন সংলগ্ন চ্যাংরাবান্ধা বাইপাসে ভিড় জমতে শুরু করে ট্রেন ছেড়ে আসা মানুষদের। জানা যায়, কিশনগঞ্জ থেকে নাতির অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন গোসাইরহাটের বাসিন্দা ধনেশ্বর বর্মন। চরম আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। কখন ছাড়বে কেউ জানে না। তাই বাধ্য হয়ে বাসেই রওনা দিচ্ছি।”
একই অভিযোগ বিনয় বর্মনেরও। তিনি জানান, ট্রেনের টিকিট কাটার পরেও পকেট থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে বাসে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টের। শুধু তাঁরাই নন, দিনহাটামুখী যাত্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস কিংবা কোচবিহারের শোভা মণ্ডলের মতো অনেককেই এদিন ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেকেই চড়া ভাড়ায় গাড়ি ঠিক করে স্টেশন ছাড়তে বাধ্য হন।
তবে খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের পদস্থ আধিকারিকরা। বিকল মেশিনটিকে লাইন থেকে সরাতে নিয়ে আসা হয় ক্রেন। প্রায় চার ঘণ্টার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অবশেষে লাইনের বাধা সরানো সম্ভব হয়। জানা গিয়েছে, দুপুর ২টো ৩০ মিনিট নাগাদ পদাতিক এক্সপ্রেস পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন যাত্রীরা। যদিও স্টেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সঠিক সময় জানানো সম্ভব হয়নি বলেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
