খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা (Swapan Kamillya) খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। বিধাননগর আদালতে জমা পড়া পুলিশের চার্জশিটে নাম নেই রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও (BDO) তথা মূল অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত বর্মণের (Prashanta Barman)। গত বছরের ২৮ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন যাত্রাগাছির খালধার থেকে ওই ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ৯০ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা পড়লেও সেখানে প্রশান্ত বর্মণের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মৃতের পরিবার।
পাঁচজনের নাম থাকলেও অধরা বিডিও
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, জমা পড়া চার্জশিটে তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার এবং বিবেকানন্দ সরকার—এই পাঁচজনের নাম রয়েছে। তবে রহস্যজনকভাবে বাদ পড়েছেন প্রশান্ত বর্মণ। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, পরবর্তীতে অতিরিক্ত চার্জশিটে তাঁর নাম যুক্ত করা হতে পারে।
আদালতের নির্দেশ অমান্য ও ফেরার বিডিও
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)—উভয় জায়গাতেই ধাক্কা খেয়েছেন প্রশান্ত বর্মণ। উচ্চ আদালত গত ২২ ডিসেম্বর তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা পালন করেননি। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি ‘ফেরার’। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও চার্জশিটে তাঁর নাম না থাকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আতঙ্কে মৃতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা
মৃত ব্যবসায়ীর দোকানের বাড়ির মালিক গোবিন্দ বাগ জানান, "প্রশান্ত বর্মণই এই খুনের নেপথ্যে রয়েছেন। আমি পুলিশকে বয়ান দিলেও চার্জশিটে ওঁর নাম নেই। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজগঞ্জে নতুন বিডিও নিয়োগ করা হলেও, এখনও পর্যন্ত এই প্রভাবশালী অভিযুক্তের হদিশ পায়নি বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)।
