খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
জলপাইগুড়ি: মেয়েকে টিউশন থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা আর হলো না। মঙ্গলবার রাতে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার (Road Accident) সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri)। লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো জলপাইগুড়ি সদর ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি লুৎফর রহমানের। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির গোশালা মোড় সংলগ্ন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে। লুৎফরের কন্যা বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
সূত্রের খবর, এদিন রাতে নিজের বাইকে মেয়েকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন লুৎফর রহমান। সেই সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁর বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে তাঁর মেয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়লেও, লুৎফর রহমান ট্রাকের নীচে পিষ্ট হন। জানা গিয়েছে, বাইকটি ট্রাকের নীচে আটকে গেলে ওই অবস্থাতেই কয়েক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায় ঘাতক লরিটি। ঘর্ষণের ফলে বাইকটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতার।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়কের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ মোড় অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘাতক লরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং লরির এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পলাতক চালকের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
