খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম হলো রঙের উৎসব দোলযাত্রা (Dol Yatra)। আবির আর রঙের ছোঁয়ায় মেতে ওঠার এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন আট থেকে আশি সকলেই। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালে ফাল্গুন মাসের এই বিশেষ তিথিটি কবে পড়েছে এবং পুজো অর্চনার শুভ সময় কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের দোল ও হোলির তারিখ
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে যা দোলযাত্রা, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তা হোলি (Holi) নামে পালিত হয়।
দোলযাত্রা (Dol Purnima 2026): ৩ মার্চ, মঙ্গলবার (বাংলা ১৮ ফাল্গুন)। এই দিনটি শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব (Basanta Utsav) হিসেবেও বিশেষ পরিচিত।
হোলি (Holi 2026): ৪ মার্চ, বুধবার। মূলত দোলের পরদিন রঙের খেলায় মেতে ওঠে গোটা দেশ।
দোল পূর্ণিমা তিথির নির্ঘণ্ট
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও পঞ্জিকা মতে, এ বছর পূর্ণিমা তিথির সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবর, পূর্ণিমা তিথি থাকছে:
পূর্ণিমা শুরু: ২ মার্চ (সোমবার), সন্ধ্যা ৫টা ৪২ মিনিটে।
পূর্ণিমা শেষ: ৩ মার্চ (মঙ্গলবার), বিকেল ৪টে ৫৭ মিনিটে।
ন্যাড়াপোড়া ও হোলিকা দহন
মন্দের বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে উৎসবের আগের দিন ন্যাড়াপোড়া (Nyara Pora) পালন করা হয়।
ন্যাড়াপোড়া তারিখ: ২ মার্চ, সোমবার। এদিন সন্ধ্যায় শুকনো পাতা ও ডালপালা পুড়িয়ে অশুভ শক্তিকে দূর করার রীতি পালিত হয়।
হোলিকা দহন (Holika Dahan): ৩ মার্চ, মঙ্গলবার। উত্তর ভারত ও ভারতের অন্যান্য অংশে এই প্রথাটি প্রচলিত। জানা গিয়েছে, হোলির ঠিক আট দিন আগে থেকে কোনও শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ থাকে, যাকে 'হোলাষ্টক' বলা হয়।
দোল পূর্ণিমার ধর্মীয় মাহাত্ম্য
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। এদিন রাধা-কৃষ্ণের বিশেষ পুজো করা হয়। বৈঞ্চব শাস্ত্র অনুযায়ী, এই পূর্ণিমা তিথিতেই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধা ও সখীদের সঙ্গে ফাগ খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঐতিহ্য মেনে আজও বাঙালি আবির নিয়ে মেতে ওঠে এই উৎসবে।
