খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
মালদা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Madhyamik Exam 2026) স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যখন পর্ষদ কড়া নজরদারির দাবি করছে, ঠিক তখনই মালদার এক পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই উত্তর লিখে তা পরীক্ষার্থীদের জোরে জোরে বলে দেওয়ার অভিযোগে মালদার মথুরাপুর বিএসএস স্কুলের (Mathurapur BSS School) শিক্ষক সনওয়ার আলি পরভেজসহ মোট ৯ জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)।
সূত্রের খবর, মথুরাপুর বিএসএস স্কুলের ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর নির্দিষ্ট একটি ঘরে গার্ড দেওয়ার দায়িত্ব ছিল। তবে এদিন তিনি নিজের ঘর ছেড়ে পাশের ঘরে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে টেবিলের ওপর থেকে একটি সাদা ‘লুজ শিট’ নিয়ে দ্রুত প্রশ্নপত্রের উত্তর লিখতে শুরু করেন তিনি। যেহেতু সেদিন তাঁর নিজের বিষয়েরই পরীক্ষা ছিল, তাই অতি সহজেই তিনি উত্তরগুলি লিখে ফেলেন। এরপরই শুরু হয় আসল নাটক। সেই উত্তরপত্র হাতে নিয়ে ক্লাসরুমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি লাউডস্পিকারের মতো জোরে জোরে উত্তর পড়তে থাকেন, যাতে পরীক্ষার্থীরা সহজেই তা খাতায় লিখতে পারে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও কোনোভাবে প্রকাশ্যে আসতেই তা পর্ষদের নজরে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক সনওয়ার আলি পরভেজকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়। পর্ষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়ম করলে পড়ুয়াদের পরীক্ষা বাতিলের নিয়ম থাকলে, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সাজা আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। শুধু মালদা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই ধরনের অভিযোগে আরও ৮ জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি (CCTV) এবং কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন শিক্ষক এমন কাণ্ড ঘটালেন, তা নিয়ে স্তম্ভিত শিক্ষামহল। স্থানীয়দের একাংশের মতে, স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা ব্যক্তিগত তৎপরতায় এই ভিডিও সামনে না এলে হয়তো বিষয়টি অজানাই থেকে যেত। তবে পর্ষদ সূত্রের দাবি, এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় যেকোনো ধরণের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
