খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই কোচবিহারের তুফানগঞ্জে (Tufanganj News) এক ভয়াবহ বিপত্তি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরি করাই যেন কাল হল। এদিন সকালের এই ঘটনায় তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে স্কুল চত্বর। তবে অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে অন্তত ২০০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
সূত্রের খবর, সোমবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ১ নম্বর ব্লকের নাককাটিগাছ হাইস্কুলে (Nakkatigach High School) এই ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১০টা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক চাপ ছিলই, কিন্তু পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে আচমকা ছন্দপতন ঘটে।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, এদিন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য চা তৈরি করা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎই রান্নার ছোট গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteer) দ্রুত সিলিন্ডারটি টেনে স্কুলের মাঠের মাঝখানে নিয়ে যান। তার ঠিক মিনিট পাঁচেক পরেই ঘটে বিকট বিস্ফোরণ। তীব্র আওয়াজে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
সিভিক ভলান্টিয়ার রাজিবুল হক জানান, "আগুন দেখে মাস্টারমশাই আমায় ডাকেন। ভেজা কাপড় জড়িয়েও আগুন নেভানো যাচ্ছিল না। তাই ঝুঁকি নিয়ে একটি বাঁশের সাহায্যে সিলিন্ডারটি মাঠের মাঝে নিয়ে যাই। তার পরেই সেটি ফেটে যায়।" তুফানগঞ্জের এসডিপিও (SDPO) শ্রী কন্নেধারা মনোজ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি ক্যান্টিনের সিলিন্ডারে আগুন লেগেছিল, যা পরে মাঠে ফেটে যায়। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বলাভূত হাই স্কুল, বিদ্যাসাগর হাই স্কুল এবং কৃষ্ণপুর হাই স্কুলের মোট ২১০ জন পরীক্ষার্থী এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল। ঘটনার জেরে অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুললেও, প্রধান শিক্ষক দুলাল বসাক জানিয়েছেন, চা ও গরম জল তৈরির সময় দুর্ঘটনাটি ঘটলেও পরীক্ষায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। সঠিক সময়েই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) পক্ষ থেকেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে।
