খবরটি শুনুন
অডিও সংস্করণ
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব হলো মহাশিবরাত্রি (Maha Shivratri)। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় ব্রতী হন ভক্তরা। তবে ২০২৬ সালে মহাশিবরাত্রি কবে এবং পুজোর সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে মহাশিবরাত্রি পালিত হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
শুভ সময় ও তিথি (Maha Shivratri 2026 Tithi)
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রি তিথি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে জানা গিয়েছে যে:
- চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে।
- চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে।
যেহেতু চতুর্দশী তিথির মূল রাতটি রবিবার পাওয়া যাচ্ছে, তাই শাস্ত্রীয় বিধান মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারিই পালিত হবে মহাশিবরাত্রির ব্রত ও পুজো।
শিবরাত্রির পুজো বিধি ও নিয়ম (Puja Vidhi & Rituals)
এই বিশেষ দিনে মহাদেবকে তুষ্ট করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে জানা যায়:
- উপবাস: এদিন উপোস রাখার চেষ্টা করুন। তবে শরীরের অবস্থা বুঝে নির্জলা বা ফলাহার করবেন কি না, তা নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী স্থির করা উচিত।
- জলপান: উপবাসের সময় শরীর সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন।
- মানসিক শুদ্ধি: মনে কোনো প্রকার নেতিবাচক চিন্তা বা কু-ভাবনা আনবেন না। শুদ্ধ মনে মহাদেবের আরাধনা করুন।
- মন্ত্র জপ: এদিন শিবের বিভিন্ন মন্ত্র পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। বিশেষ করে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করলে বা শুনলে মহাদেব অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন বলে জানা গিয়েছে।
কী করবেন না? (Strict Prohibitions)
- মহাশিবরাত্রির পবিত্র দিনে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়:
- আমিষ আহার: এদিন ভুলেও আমিষ খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়।
- শারীরিক পরিশ্রম: উপবাস অবস্থায় অতিরিক্ত শরীরচর্চা বা ভারী কসরত না করাই ভালো।
- নেশা বর্জন: এই পবিত্র তিথিতে সুরাপান বা যেকোনো প্রকার নেশাদ্রব্য থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।
নি নির্দ্রা: শাস্ত্র মতে, শিবরাত্রির রাতে ঘুমানো উচিত নয়। এদিন রাত জেগে চার প্রহর ধরে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে নিষ্ঠাভরে ব্রত পালন করা শ্রেয়।
